দিল্লি – গত বছরের ১০ নভেম্বর রাজধানী দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ করল National Investigation Agency। বৃহস্পতিবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে ১০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৫০০ পাতার বিশাল চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের নেপথ্যে ছিল Al-Qaeda ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ’। ২০২৫ সালের ওই বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং বহু মানুষ আহত হন। তদন্তে নেমে এনআইএ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি উচ্চশিক্ষিত এবং পেশাদার পটভূমির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, চার্জশিটে নাম থাকা অভিযুক্তরা সকলেই ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়দার শাখা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন আমির রশিদ মীর, জাসির বিলাল ওয়ানি, চিকিৎসক মুজামিল শাকিল, চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাদার, চিকিৎসক শাহিন সাঈদ, মুফতি ইরফান আহমদ ওয়াগে, সোয়েব, চিকিৎসক বিলাল নাসির মাল্লা এবং ইয়াসির আহমদ দার।
এই মামলার মূল অভিযুক্ত ছিলেন ডাঃ উমর উন নবী। পুলওয়ামার বাসিন্দা উমর ফরিদাবাদের Al-Falah University-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ছিলেন। বিস্ফোরণের ঘটনাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, বিস্ফোরক আইন এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এনআইএ-র তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা আল-কায়দার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। ২০২২ সালে শ্রীনগরে একটি গোপন বৈঠকের মাধ্যমে সংগঠনটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তুরস্ক হয়ে আফগানিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পরই তারা ভারতে নাশকতার পরিকল্পনা শুরু করে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা ‘অপারেশন হেভেনলি হিন্দ’ নামে একটি গোপন অভিযান শুরু করেছিল। যার লক্ষ্য ছিল দেশে অস্থিরতা তৈরি করা এবং চরমপন্থী কার্যকলাপ ছড়িয়ে দেওয়া। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সদস্য সংগ্রহ, উগ্র মতাদর্শ প্রচার এবং বিস্ফোরক মজুতের কাজ চলছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
এনআইএ জানিয়েছে, লালকেল্লার বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও উদ্বায়ী বিস্ফোরক ‘ট্রায়াসিটন ট্রাইপেরক্সাইড’ বা টিএটিপি। তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা গোপনে রাসায়নিক সংগ্রহ করে বারবার পরীক্ষার মাধ্যমে এই বিস্ফোরক তৈরি করেছিল। শুধু গাড়ি-বোমাই নয়, ড্রোন-মাউন্টেড আইইডি এবং রকেট-ভিত্তিক বিস্ফোরক নিয়েও তারা পরীক্ষা চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ।
এই বিশাল চার্জশিটে ৫৪৪ জন সাক্ষীর বয়ান এবং ৩৯৫টি গুরুত্বপূর্ণ নথিকে ভিত্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি, ফরিদাবাদ এবং জম্মু-কাশ্মীর থেকে উদ্ধার হওয়া ২০০টিরও বেশি বস্তুগত প্রমাণ আদালতে জমা দিয়েছে এনআইএ। ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং ভয়েস অ্যানালিসিসের মতো একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা। রাজধানীর বুকে শিক্ষিত যুবকদের জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে গোয়েন্দা মহলে।




















