রাজ্য – অবসরের পর নিয়মিত ও সুরক্ষিত আয়ের উৎস খুঁজছেন? তাহলে পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিং স্কিম (SCSS) হতে পারে আপনার জন্য এক আদর্শ বিকল্প। সরকার-সমর্থিত এই স্কিম বর্তমানে বার্ষিক ৮.২% সুদের হার প্রদান করে, যা বাজারের অন্যতম সর্বোচ্চ রিটার্ন দেওয়া স্কিমগুলির মধ্যে একটি। বিশেষ বিষয় হলো, এতে এককালীন বিনিয়োগের পর প্রতি তিন মাস অন্তর সুদের অর্থ পাওয়া যায়, যা অবসরকালীন জীবনে নিশ্চিত নগদ প্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এই স্কিমটি মূলত ৬০ বছর বা তার ঊর্ধ্বে থাকা নাগরিকদের জন্য তৈরি। ন্যূনতম ₹১,০০০ এবং সর্বোচ্চ ₹৩০ লক্ষ পর্যন্ত এককালীন বিনিয়োগ করা যায় এই প্রকল্পে। স্কিমের মেয়াদ পাঁচ বছর, যা আরও তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। যৌথভাবে, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী মিলে এই স্কিমে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় এবং ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়।
বর্তমানে ৮.২% বার্ষিক সুদের হার অনুযায়ী, প্রতি তিন মাস অন্তর সুদের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয় — ৩১ মার্চ, ৩০ জুন, ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ৩১ ডিসেম্বর। উদাহরণস্বরূপ, ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষেত্রে প্রতি ত্রৈমাসিকে প্রায় ₹৬১,৫০০ এবং পাঁচ বছরে প্রায় ₹১২.৩০ লক্ষ টাকা সুদ পাওয়া যায়, যা অবসরকালীন জীবনে একটি বড় সহায়ক।
এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে আয়কর আইনের ৮০সি ধারার অধীনে কর ছাড় পাওয়া যায়, যদিও প্রাপ্ত সুদের ওপর কর প্রযোজ্য। ৬০ বছরের বেশি বয়সী ভারতীয় নাগরিকরা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এছাড়াও, VRS নেওয়া ৫৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী এবং প্রতিরক্ষা কর্মীরা ৫০ বছর বয়সের পরেও এই স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারেন।
মেয়াদপূর্তির আগেই যদি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে হয়, তাহলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এক বছরের মধ্যে বন্ধ করলে সুদ দেওয়া হয় না। ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে বন্ধ করলে মূলধনের ১.৫% কাটা হয়, আর ২ থেকে ৫ বছরের মধ্যে বন্ধ করলে ১% কাটা হয়। তবে পাঁচ বছরের পর মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া অ্যাকাউন্ট যেকোনো সময় বন্ধ করা যায় বিনা কর্তনে।
SCSS স্কিমের বিশেষত্ব হলো এটি একটি সরকার সমর্থিত প্রকল্প, ফলে ঝুঁকি শূন্য। নির্দিষ্ট ও নিয়মিত রিটার্ন মেলে, যা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর ছাড় এবং স্থায়ী আয়ের কারণে এটি অনেক প্রবীণ নাগরিকের জন্য নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক সহায়ক হয়ে উঠেছে।
