বিদেশ- এইচ-ওয়ান বি (H-1B) ভিসা সংক্রান্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ফরমানের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল আমেরিকার বৃহত্তম ব্যবসায়িক সংগঠন। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দিল ফেডারেল আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে এবং এই ফরমান সেই ক্ষমতার মধ্যেই পড়ে।
উল্লেখ্য, উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ঘোষিত এইচ-ওয়ান বি ভিসার নতুন বিধির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে মামলা করেছিল মার্কিন চেম্বার অফ কমার্স-সহ একাধিক শিল্প ও বাণিজ্যিক সংগঠন। বিশেষ করে ভিসা রিনিউ বা জারির ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডলার ফি ধার্য করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় অভিবাসন আইনের পরিপন্থী।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির জেলা আদালত চেম্বার অফ কমার্সের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতে ব্যবসায়িক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই নীতি কার্যকর হলে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, হাসপাতাল এবং অন্যান্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠানগুলি বিপাকে পড়বে। বহু সংস্থাকে বাধ্য হয়ে কর্মী ছাঁটাই করতে হতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি জনপরিষেবার উপর পড়বে। পাশাপাশি পরিষেবা প্রদানের খরচ বাড়বে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উপরই এসে পড়বে।
চেম্বার অফ কমার্সের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান কৌঁসুলি ডারিল জোসেফার জানান, এই বিপুল পরিমাণ ফি বহন করা অনেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। আদালতের সিদ্ধান্তে তাঁরা হতাশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি জানান, বিষয়টি নিয়ে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে অন্তত বিষয়টি মার্কিন কংগ্রেসের আলোচনায় আসে।
এইচ-ওয়ান বি ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকারী সংস্থাগুলি বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এই ভিসার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল মার্কিন সংস্থাগুলি। বর্তমানে বছরে ৬৫ হাজার এইচ-ওয়ান বি ভিসা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসা দেওয়া হয়, যার মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর।



















