বিনোদন – চুপিসারে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটার ও ছোটপর্দার অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী। বেশ কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন চলছিল, তবে কবে, কোথায় ও কাকে বিয়ে করছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। অবশেষে সোমবার গঙ্গার ধারে, শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে বাঙালি রীতি মেনে সম্পন্ন হয় বিয়ের আয়োজন।
পাত্রীর পরিচয় আরও বেশি চমকপ্রদ। তিনি ছোটপর্দার পরিচিত মুখ অয়ন্যা চট্টোপাধ্যায়, যিনি ‘কমলা ও শ্রীমান পৃথ্বীরাজ’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের জন্য পরিচিত। অদ্ভুতভাবে, অয়ন্যার বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নেটিজেনদের একাংশে। জানা যাচ্ছে, তাঁর বয়স আনুমানিক ১৩ বা ১৪ বছর, যেখানে সায়ক চক্রবর্তীর বয়স ৩১। বয়সের এই বিস্তর ফারাক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সঙ্গে বিয়ের খবর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সায়ক ও অনন্যার প্রেম নিয়ে এতদিন কেউ কিছু আঁচ করতে পারেননি। তাঁদের সম্পর্কের কথা আগে কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের ছবি ঘুরে বেড়াতে শুরু করে। অনন্যার হলুদ রঙের শাড়ি ও গোলাপি ব্লাউজে গায়ে গাছকৌটো পরিহিত ছবি, সন্ধ্যেবেলায় লাল বেনারসী ও সোনা গয়নায় বধূর সাজ, আর সায়কের ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবি ও লাল ধুতি—সব মিলিয়ে অনুষ্ঠান ছিল যথেষ্ট বর্ণময়।
তবে এই বিয়েতে দেখা মেলেনি সায়কের পরিবার-পরিজনের। অনুপস্থিত ছিলেন তাঁর মা, ভাই সব্যসাচী, দিদি প্রেরণা, তাঁদের পরিচারিকা খুকু ও বন্ধু সুকান্ত। কেবলমাত্র উপস্থিত ছিলেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী। এই অনুপস্থিতি আরও জল্পনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই ভাবছেন, এটি হয়তো কোনও ওয়েব সিরিজ বা ধারাবাহিকের শুটিং দৃশ্য। কারণ, কিছুদিন আগেই সায়ক সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “ভাবছি এ বার বিয়েটা সেরেই ফেলি।” তারপর থেকেই ফোনের বন্যা বয়ে যায় তাঁর দিকে, যদিও তিনি মুখ খোলেননি।
এই মুহূর্তে নেটমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে—এই বিয়ে কি বাস্তব, না কি নিছকই কোনও ক্যামেরার দৃশ্য? যদি বিয়ে বাস্তব হয়, তাহলে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের এই সম্পর্ক কি আইনসিদ্ধ? প্রশ্ন উঠছে নৈতিকতা ও আইনি দিক নিয়েও।
এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সায়ক কিংবা অনন্যা কেউই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। তবে বিয়ের ছবি যেভাবে প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে জল্পনা আরও গাঢ় হচ্ছে।
