দেশ – ২৫ ডিসেম্বর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মবার্ষিকী উদযাপনের সঙ্গে সুশাসন দিবস পালন করে আসছে কেন্দ্র সরকার। এই দিনটি দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা এবং জনমুখী পরিষেবা প্রচারের উদ্দেশ্যে উদযাপিত হয়। সরকারের দাবি, গুড গভর্নেন্স ইনডেক্স বা সুশাসন সূচক প্রশাসনিক সংস্কার ও জনঅভিযোগ বিভাগের বিশেষ পদ্ধতি, যা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির শাসনব্যবস্থার মান পরিমাপ করে।
অটলবিহারী বাজপেয়ী (১৯২৪–২০১৮) তিনবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গণতান্ত্রিক আদর্শ, নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সাম্যের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার আজও সুশাসন উদযাপনের মূল অনুপ্রেরণা। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় মহাসড়ক, গ্রামীণ সড়ক যোজনা এবং টেলিকম পরিকাঠামোতে বিপ্লব ঘটেছিল। সুশাসন সূচক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কাজের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করে এবং তথ্যভিত্তিক প্রশাসনিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করে।
গুড গভর্নেন্স সূচক ১০টি প্রধান ক্ষেত্রে ৫৮টি সূচকের ভিত্তিতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অগ্রগতি পরিমাপ করে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি ও আনুষঙ্গিক ক্ষেত্র, বাণিজ্য ও শিল্প, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, গণ-পরিকাঠামো ও জনপরিষেবা, অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা, সামাজিক কল্যাণ, বিচারব্যবস্থা ও জননিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনমুখী শাসনব্যবস্থা। প্রতিটি ক্ষেত্রের সূচক দেশের অগ্রগতি, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জনমুখী পরিষেবার মান প্রতিফলিত করে।
২০২৫ সালে বিভিন্ন সম্মেলন ও অধিবেশন, যেমন ২৮তম জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স সম্মেলন ও IIAS-DARPG সম্মেলন, সুশাসন ও ডিজিটাল রূপান্তরকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্টেট কোলাবোরেটিভ ইনিশিয়েটিভ স্কিমের মাধ্যমে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৮০টিরও বেশি প্রকল্প পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য SCI পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে।
সুশাসন দিবস ২০২৫ অটলবিহারী বাজপেয়ীর দায়বদ্ধ ও জনমুখী শাসনব্যবস্থার স্বপ্নকে সম্মান জানায়। সূচকের মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক প্রশাসনিক সংস্কার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি বাস্তবায়ন করে সুশাসনকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান অগ্রগতি প্রমাণ করে যে সঠিক শাসন এবং নির্ভরযোগ্য প্রশাসনই ন্যায়সংগত ও স্থিতিশীল উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।




















