অব্যবস্থাপনায় ঢাকা সুপার কাপ ফাইনাল, ইস্টবেঙ্গলের হতাশা—ভারতীয় ফুটবলের চিত্র আরও উন্মোচিত

অব্যবস্থাপনায় ঢাকা সুপার কাপ ফাইনাল, ইস্টবেঙ্গলের হতাশা—ভারতীয় ফুটবলের চিত্র আরও উন্মোচিত

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


খেলা -গোয়ায় সুপার কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ও এফসি গোয়া। দেশের অন্যতম সেরা টুর্নামেন্ট—তারপরও আয়োজন দেখে তা বোঝার উপায় ছিল না। এআইএফএফ-এর অব্যবস্থা যেন গোটা অনুষ্ঠানটিকে আড়াল করে দিল। প্রচারের অভাব, পরিকল্পনার ঘাটতি, প্রয়ো  জনীয় প্রস্তুতিতে ঢিলেমি—সব মিলিয়ে সুপার কাপ যেন দায়সারা ভাবে শেষ করল ফেডারেশন।

ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত গোয়াতে ছিল না মূল ট্রফি, ফলে অধিনায়কদের ফটোশ্যুট আয়োজনই করা যায়নি। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে কোনওক্রমে একটি রেপ্লিকা এনে অনুষ্ঠানটিকে বাঁচানো হয়। মাঠে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে, কিন্তু তাঁর উপস্থিতিও আড়াল করতে পারল না আয়োজনে থাকা ত্রুটি। দেশের শীর্ষস্তরের ফুটবল প্রতিযোগিতা হয়েও না কাজ করছিল স্কোরবোর্ড, না ছিল পোস্ট ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সের ব্যবস্থা। টুর্নামেন্টের প্রাইজমান কম হওয়াও প্রশ্ন তুলেছে ফুটবল মহলের একাংশ।

কল্যাণ চৌবে ফাইনালে গোয়ার জয়ের প্রশংসা করলেও, দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা দিতে পারেননি। আইএসএল কবে শুরু হবে—সেই দিশাও দেখাতে ব্যর্থ তিনি। তাঁর বক্তব্য, “প্রার্থনা করুন, যাতে দ্রুত ফুটবল আবার শুরু হয়।” এমন মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের হতাশাই বাড়িয়েছে।

ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। সেমিফাইনালে লাল কার্ড দেখে ফাইনালে ডাগআউটে থাকতে পারেননি হেড কোচ অস্কার ব্রুজো। সহকারী কোচ বিনো জর্জ ছিলেন দায়িত্বে, আর অস্কারকে গ্যালারি থেকেই দলের লড়াই দেখাতে হয়। বিরতির সময় ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকারের সঙ্গে কোচের দীর্ঘ আলোচনা চোখে পড়ে।

শেষ পর্যন্ত তীরে এসে তরী ডুবল লাল-হলুদের। ম্যাচ হারের পর ডাগআউট জুড়ে শুধু হতাশার সুর। জয় গুপ্তা ও কেভিনসহ বহু ফুটবলার কান্নায় ভেঙে পড়েন। শোকের আবহ নেমে আসে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে। মাঠে লড়াই ছিল, চেষ্টা ছিল, কিন্তু ফুটবল-ভাগ্য এ দিন পাশে দাঁড়ায়নি।

দেশের ফুটবলে অব্যবস্থার যে দীর্ঘদিনের অভিযোগ—সুপার কাপের আয়োজন তা স্পষ্ট করে দিল আরও একবার।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top