আইন কলেজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন..

আইন কলেজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন..

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুর,১২ ই মার্চ:ফের কলেজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন। প্রায় ১০০০ জন পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অথৈ জলে। ঘটনা দুর্গাপুরের গান্ধীমোড় সংলগ্ন বেসরকারি আইন কলেজের। জানা গেছে, কলেজের বাইরে বিশাল ব্যানারে বড় বড় করে লেখা রয়েছে যে এই আইন কলেজ বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার অনুমোদন প্রাপ্ত। আর এই বিজ্ঞাপন দেখিয়েই প্রত্যেক বছর কলেজে আইন বিষয় নিয়ে পড়তে আসা পড়ুয়াদের ভর্তিও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আদপে বর্তমানে এই কলেজ বিসিআই-এর অনুমোদন প্রাপ্ত নয়। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই সোমবার সকাল থেকে দুর্গাপুরের গান্ধীমোড়ের এই আইন কলেজের পড়ুয়ারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ টাকা ভর্তি বাবদ পড়ুয়াদের কাছ থেকে নিচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ, অথচ কোর্সের মাঝপথে তারা আজ জানতে পারছে কলেজের কোনও বৈধতাই নেই। ফলে ৩ বছরের আইনের কোর্স এবং ৫ বছরের কর্পোরেট আইনের কোর্সের পড়ুয়া মিলে বর্তমানে যে এক হাজার পড়ুয়া ওই কলেজে পড়াশোনা করছে ২০১৯ সালের মধ্যে কলেজের বৈধ বিসিআই অনুমোদন না মিললে তাদের ভবিষ্যত প্রশ্নের মুখে পড়বে। কারণ বার কাউন্সিলের অনুমোদনহীন ওই কলেজ থেকে পাশ করলেও তারা বৈধ আইনজীবীর স্বীকৃতি পাবে না। পড়ুয়াদের আরও অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ তো নিচ্ছেই না বরং এই বিষয়ে জানতে গেলে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। পড়ুয়াদের এই অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যম কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দায় চাপিয়ে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই আইন কলেজ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকাকালীন বিসিআই অনুমোদন প্রাপ্ত ছিল। কিন্তু এরপর আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী হওয়ার পর গান্ধীমোড়ের এই বেসরকারী কলেজ কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ার পর থেকেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বারবার আবেদন করা সত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে সাফাই কলেজ কতৃপক্ষের। আর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের টানাপোড়েনে অন্ধকারে প্রায় এক হাজারেরও বেশী পড়ুয়ার ভবিষ্যত। গোটা ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত গাফিলতি ও বেআইনীভাবে কলেজ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন কলেজের পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকেরা। তাদের বক্তব্য, সরকারী যখন কোনও অনুমোদনই নেই তাহলে ২০১৫ সালের নতুন কোর্সে পড়ুয়াদের ভর্তি কী করে নিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ, পড়ুয়াদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা টাকা ভর্তি বাবদ আদায় করে মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে সেইসময় বার কাউন্সিলের অনুমোদন না থাকার ঘটনা প্রকাশ্যে আনেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাই ২০১৯ সালের মধ্যে বিসিআই অনুমোদন করার দাবীতে সোমবার বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়ারা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top