কলকাতা – পরিকল্পনা মতো বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) ডিরেক্টর রাহুল নবীন। তিন দিনের সফরে রাজ্যে এলেও, এই সফরের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক আইপ্যাক-কাণ্ড এবং তা ঘিরে রাজ্য সরকারের সঙ্গে ইডির সংঘাতের প্রেক্ষিতেই এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আইপ্যাকের কলকাতার অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় নাটকীয় ভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট সংক্রান্ত কাজকর্ম সামলাচ্ছে আইপ্যাক। শাসকদলের অভিযোগ, বিজেপির স্বার্থে ইডিকে ব্যবহার করে তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা এবং দলের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তৃণমূলের আরও দাবি, আইপ্যাক অফিসে থাকা একাধিক রাজনৈতিক নথি বাজেয়াপ্ত করতে চেয়েছিল ইডি।
তল্লাশি শেষে আইপ্যাক অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে কিছু কাগজপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেন, তিনি সেখানে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবেই উপস্থিত ছিলেন। এই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি আরও জটিল আকার নেয়।
আইপ্যাক-কাণ্ডের পর ইডি প্রকাশ্যে সরব হয় এবং দ্রুত বিষয়টি গড়ায় আদালতে। কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। ইডির তরফে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এমনকি পুরো ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইডির বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ করেছে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশ। সেই পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি। আপাতত আদালতের নির্দেশে ইডির বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ স্থগিত রয়েছে।
এই আবহেই ফের পশ্চিমবঙ্গে এলেন ইডির শীর্ষকর্তা রাহুল নবীন। সূত্রের খবর, শুক্রবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে রাজ্যের ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। শনিবার তাঁর দিল্লি ফেরার কথা। এই তিন দিন রাজ্যের সমস্ত ইডি আধিকারিককে সিজিও কমপ্লেক্সে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে আইপ্যাক-কাণ্ড এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।




















