আইপ্যাক-কাণ্ডে বিতর্কিত ‘সবুজ ফাইল’, রাজ্য রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত

আইপ্যাক-কাণ্ডে বিতর্কিত ‘সবুজ ফাইল’, রাজ্য রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – রাজ্যের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে আইপ্যাক-কাণ্ডে। ইডির তল্লাশির মাঝেই লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ধরা ‘সবুজ ফাইল’-এর ভিতরের নথি এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ইডি দাবি করছে, বাজেয়াপ্ত করার জন্য আলাদা করে রাখা নামের তালিকা জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল ও নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
Enforcement Directorate সূত্রে জানা গেছে, বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আইপ্যাকের দফতর ও প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চলছিল। তল্লাশির সময় প্রতীকের স্টাডি টেবিলে একটি নামের তালিকা পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই তালিকার কারও আর্থিক তছরুপে যোগ আছে কি না, তা যাচাই করতেই নথি বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
ইডির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি ঘোরালো হয় যখন প্রথমে পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এবং পরে মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের দাবি, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী সেই সবুজ ফাইল নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। ঘটনাস্থলের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি ইডিকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের ভোটের রণকৌশল ও প্রার্থিতালিকা ‘চুরি’ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা স্বচ্ছ কভারের সবুজ ফাইলের ভিতরের কাগজ বাইরে থেকেই আংশিক দৃশ্যমান ছিল।
নামের তালিকা কীসের তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থিতালিকা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল কি না—এমনও অনুমান করা হচ্ছে। আইপ্যাক রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা হওয়ায় কর্ণধারের স্টাডি টেবিলে দলীয় নথি থাকা অস্বাভাবিক নয় বলে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। ইডি জানাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছনোর সময় প্রতীক বাড়িতেই ছিলেন, তবে তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা হয়নি। কথা হয়েছে ইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রসান্ত চণ্ডিলার সঙ্গে। ইডির দাবি, তাঁর কাছ থেকেই কিছু ডিজিটাল নথি জোর করে নেওয়া হয়েছে এবং তা আদালতে তোলা হয়েছে।
ইডি সূত্র আরও জানাচ্ছে, নামের তালিকার পাশাপাশি একটি ল্যাপটপ ও একটি আইফোনও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ায় ছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আধিকারিকরা পুরো ঘটনার রিপোর্ট তৈরি করে দিল্লির সদর দফতরে পাঠিয়েছেন, যা Ministry of Home Affairs-এ পাঠানো হতে পারে।
অন্যদিকে পাল্টা আইনি পদক্ষেপও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানা ও শেক্সপিয়র সরণি থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে ইডি তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কোর্টেও মামলা হয়েছে। তৃণমূলও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। সব মামলার শুনানি আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি রয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top