বিদেশ – ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের হত্যাকাণ্ড যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে মার্কিন রাজনীতিতে। এর এক দিন আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে তৃতীয় বিশ্বের সব দেশের জন্য আমেরিকার অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। সেই ঘোষণা কার্যকর হওয়ার আগেই পরের দিন আরও কড়া পদক্ষেপ নেয় তাঁর প্রশাসন। শনিবার মার্কিন বিদেশ দফতর জানায়—আফগান পাসপোর্টধারীদের ভিসা ইস্যু ‘অবিলম্বে’ স্থগিত। বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়োও খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
সমাজমাধ্যমে মার্কিন বিদেশ দফতর জানায়, আফগান পাসপোর্টধারীদের ভিসা ইস্যু আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রুবিয়ো পোস্টটি শেয়ার করে লেখেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিদেশ দফতর সকল আফগান নাগরিকের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে—দেশের সুরক্ষাই তাঁদের অগ্রাধিকার।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক রক্তাক্ত ঘটনা। হোয়াইট হাউসের সামনে বন্দুকবাজের গুলিতে নিহত হন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য সারাহ্ বেকস্ট্রম (২০) ও অ্যান্ড্রু উলফ (২৪)। পরে জানা যায়, হামলাকারী রহমানুল্লা লাকানওয়াল আফগানিস্তান থেকে ২০২১ সালে আমেরিকায় এসেছিলেন এবং সেখানেই স্থায়ী হয়েছিলেন। গুলিবর্ষণের পর হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে হত্যা করে। এই ঘটনার পর থেকেই আফগান নাগরিকদের প্রতি কড়া মনোভাব দেখাচ্ছেন ট্রাম্প।
ঘটনাটির রাজনৈতিক তাৎপর্যও বড়। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় থাকাকালীন আফগানিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কর্মসূচি চালু করেছিলেন—যুদ্ধে সহায়তা করা আফগানদের আমেরিকায় আনার উদ্যোগ হিসেবে। সেই কর্মসূচির অধীনেই লাকানওয়াল আমেরিকায় ঢুকেছিলেন বলে জানা যায়। এই তথ্য সামনে আসার পর ট্রাম্প বাইডেন প্রশাসনকে আক্রমণ করেন। তবে বিতর্কিত আরেকটি তথ্য বলছে, লাকানওয়াল ট্রাম্পের আগের মেয়াদেই আনুষ্ঠানিক আশ্রয় পেয়েছিলেন।
হামলার পর নতুন করে সক্রিয় হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আমেরিকার নাগরিক নন—এমন কেউ সরকারি সুবিধা পাবেন না এবং অনুপ্রবেশ রোধে কড়া নজরদারি হবে। পাশাপাশি আফগানিস্তান-সহ ১৯টি দেশের গ্রিন কার্ড আবেদন ফের খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্তের কথাও জানান। আর তার ঠিক এক দিনের মাথায় আফগানদের ভিসা ইস্যু স্থগিত—যা স্পষ্টই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্প আরও কঠোর পথেই এগোচ্ছেন।



















