দিল্লি – মজার ছলে বলা একটি প্রশ্নের পর মুহূর্তেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ডিএলএফ ফেজ ৩-এর একটি আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হল ২২ বছর বয়সী বরিঞ্জি পর্বতীর। ঘটনার সময় তিনি স্বামীর সঙ্গে ছাদে বসে সময় কাটাচ্ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওড়িশার গঞ্জাম জেলার বাসিন্দা পর্বতী তাঁর স্বামী ডি দুর্যোধন রাওয়ের সঙ্গে ছাদের ধারে বসে ছিলেন। সেই সময় পর্বতী মজা করে স্বামীকে প্রশ্ন করেন, “আমি পড়ে গেলে তুমি আমায় ধরতে পারবে তো?” এই কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎই ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান তিনি।
স্বামী দুর্যোধন রাও জানান, “আমি ওকে নিচে নামতে বলছিলাম। ওর হাত ধরে রেখেছিলাম প্রায় দু’মিনিট। সাহায্যের জন্য চেঁচিয়েছিলাম। কিন্তু আশপাশে কেউ ছিল না। শেষমেশ ওর হাতটা আমার হাত থেকে ছুটে যায়।”
পর্বতী একটি কল সেন্টারে কাজ করতেন, আর দুর্যোধন ছিলেন এক বেসরকারি সংস্থার সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট মডারেটর। তিনি বলেন, “ভাগ্যের দোষ নয়তো আমাদের দাম্পত্যজীবন ছিল খুবই সুখের। আমরা সন্তানের পরিকল্পনাও করছিলাম। এক মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল। ঈশ্বর বোধহয় এটাই চাইছিলেন।”
পুলিশ জানিয়েছে, পর্বতী ছাদের রেলিংয়ে পা ঝুলিয়ে বসে ছিলেন এবং ধস্তাধস্তির চিহ্ন মিলেছে স্বামীর হাত ও বুকে—যা থেকে প্রমাণ মেলে যে, তিনি স্ত্রীকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে খুন বা আত্মহত্যার কোনও প্রমাণ মেলেনি।
ডিএলএফ ফেজ ৩ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক যোগেশ কুমার জানান, “পর্বতীর পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। দেহটি ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনার চার দিন পরও স্ত্রীর শোকে ভেঙে পড়েছেন দুর্যোধন। দিল্লির এক ছোট্ট ভাড়াবাড়িতে বসে কান্নাভেজা চোখে বলেন, “সব কিছু শেষ হয়ে গেল। ও-ই ছিল আমার জীবন।”
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘিরে আবাসনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সতর্কতার বার্তা দিয়ে গেছে একটি মুহূর্ত—যেখানে হাসি আর প্রশ্নের মাঝেই লুকিয়ে ছিল মৃত্যু।
