বিদেশ – আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েনের আবহে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় গ্রেফতারের পর এটিই দুই নেতার প্রথম কথোপকথন। আলোচনার পর উভয় পক্ষই জানিয়েছেন, আগামী দিনে ভারত-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।
এই ফোনালাপের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশই পারস্পরিক সহযোগিতা সব ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ভারত-ভেনেজুয়েলা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক মহল এই ফোনালাপকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আগ্রাসী নীতি নিয়েছে। একইসঙ্গে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইঙ্গিত মিলেছে, নতুন মার্কিন-নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর অধীনে ভারতকে আবার ভেনেজুয়েলার তেল কেনার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
মার্কিন মন্ত্রী ক্রিস্টোফার রাইট জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যৎ উৎপাদন থেকেও আরও তেল বাজারে আনা হবে, তবে পুরো প্রক্রিয়া থাকবে আমেরিকার কড়া নিয়ন্ত্রণে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিক্রির অর্থ নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা হবে এবং মার্কিন সরকারের মাধ্যমেই এই লেনদেন পরিচালিত হবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে আন্তর্জাতিক বড় সংস্থাগুলি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠতা নতুন কৌশলগত তাৎপর্য পাচ্ছে।
ভারত ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক বহু দশকের পুরনো। বিশেষ করে তেল বাণিজ্যই দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল। একসময় ভারত ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করত, যা ভেনেজুয়েলার মোট তেল রফতানির একটি বড় অংশ ছিল।
তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ার পর ভারতীয় সংস্থাগুলি ধীরে ধীরে তেল আমদানি কমিয়ে আনে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভেনেজুয়েলা থেকে ভারতের তেল আমদানি ৮০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পায়। তবুও দুই দেশের বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। চলতি অর্থবর্ষে ভারতের ভেনেজুয়েলা থেকে মোট আমদানির পরিমাণ ৩৬৪.৫ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল রয়েছে ২৫৫ মিলিয়ন ডলারের। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলায় ভারতের রফতানির পরিমাণ প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও ডেলসি রদ্রিগেজের ফোনালাপকে ভবিষ্যতের তেল কূটনীতি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।




















