রাজ্য – আরবদুনিয়ার সংঘাত (Middle East) এখন ভারতের রান্নার গ্যাস বাজারে (LPG Gas Crisis) তীব্র প্রভাব ফেলছে। বড় শহর মুম্বই ও বেঙ্গালুরুতে রেস্তরাঁ-হোটেল বন্ধের পর্যায়ে পৌঁছেছে গ্যাসের সরবরাহ সমস্যা। কলকাতাতেও (Kolkata LPG Crisis) এর প্রভাব স্পষ্ট। রাতারাতি বেড়েছে গ্যাস সিলিন্ডারের বুকিং, একই সঙ্গে বেড়েছে কালোবাজারিও।
রান্নার গ্যাসের (Cooking Gas) জন্য উদ্বিগ্ন মানুষ একসঙ্গে বুকিং করতে শুরু করায় কয়েক দিনের মধ্যে বুকিং সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কালোবাজারিরা সিলিন্ডার বহুগুণ দামে বিক্রি করছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বল যোজনার (Pradhan Mantri Ujjwala Yojana) দরিদ্র পরিবারের সিলিন্ডারও বেআইনিভাবে হাতবদল হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (IOC) বুকিং ৫ মার্চ নাগাদ ২.৫ লক্ষ থেকে ৯ মার্চে ৫.৮ লক্ষে পৌঁছেছে। সব তেল-বিপণন সংস্থা মিলিয়ে বুকিং ৩.৯ লক্ষ থেকে ৭.৫ লক্ষেরও বেশি হয়েছে। সাধারণ পরিস্থিতিতে রাজ্যে দৈনিক প্রায় ৫ লক্ষ সিলিন্ডার ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে IOC সরবরাহ করে ৩ লক্ষের বেশি, বাকি BPCL ও HPCL। অল্প সময়ে এত বুকিং হওয়ায় ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে চাপ পড়েছে এবং বেআইনি বাজার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
কলকাতার আজাদগড়, বিজয়গড়, বিক্রমগড়ের মতো এলাকায় বহু ছাত্রছাত্রী ও ভাড়াটিয়া থাকেন। তাঁদের বেশিরভাগের নিজস্ব LPG কানেকশন নেই। তারা সাধারণত ছোট সিলিন্ডার বা অস্থায়ী সরবরাহকারীর উপর নির্ভর করেন। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই এলাকায় কালোবাজারে বহুগুণ দামে সিলিন্ডার নিতে হচ্ছে। এমনকি নিজস্ব গ্যাস কানেকশন থাকা মানুষেরাও অতিরিক্ত সিলিন্ডারের জন্য কালোবাজারে ভিড় জমাচ্ছেন।
শুধু গৃহস্থই নয়, শহরের রেস্তরাঁও ক্ষতিগ্রস্ত। National Restaurant Association of India (NRAI) জানিয়েছে, কলকাতায় প্রায় ৫ হাজার রেস্তরাঁ রয়েছে। এদের একটি বড় অংশ রান্নার জন্য পুরোপুরি LPG-র উপর নির্ভরশীল। NRAI-এর কলকাতা বিভাগের প্রধান পিয়ূষ কানকারিয়া বলেছেন, অনেক রেস্তরাঁর রান্নার গ্যাস শেষ হওয়ার পথে। এরমধ্যে ৪০ শতাংশ রেস্তরাঁ দ্রুত বিপর্যয়ে পড়তে পারে, আরও ৩০-৪০ শতাংশ মাত্র কয়েক দিনের মতো গ্যাস মজুত রাখে চলতে পারবে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার রান্নার গ্যাস সংকট মোকাবিলায় অত্যাবশ্যক পণ্য বিক্রি আইনের (Essential Commodities Act, 1955) জরুরি ধারা প্রয়োগ করেছে। ১৯৫৫ সালের ওই আইনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত মজুত, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormmuz) দিয়ে তরল গ্যাস আমদানি বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জরুরি পরিষেবায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়। ১৯৫৫ সালের আইনের ৩ ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারকে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ, বন্টন এবং সম্পর্কিত ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।



















