দিল্লি – আরাবল্লি পর্বতমালাকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের ব্যাখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। সোমবার তিনি বলেন, রায় খুঁটিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয় যে দেশের প্রাচীনতম এই পর্বতমালার সংরক্ষণ নিয়েই আদালত জোর দিয়েছে; কোনওভাবেই এর ক্ষয় বা খননের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে দিল্লি, রাজস্থান ও গুজরাটে বিস্তৃত আরাবল্লি পর্বতমালাকে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার বরাবরই ‘সবুজ আরাবল্লি’-র পক্ষে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভূপেন্দ্র যাদব ব্যাখ্যা করেন, রায়ে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্ব মূলত খনন সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিষয় খতিয়ে দেখা। বিতর্কিত ‘১০০ মিটার’ সংজ্ঞা সম্পর্কে তিনি জানান, এটি কোনও এলাকা বাদ দেওয়ার কৌশল নয়; পাহাড়ের চূড়া থেকে পাদদেশ পর্যন্ত উচ্চতার মান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া এনসিআর এলাকায় কোনো ধরনের খননের অনুমতি নেই।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, রায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশে (প্যারাগ্রাফ ৩৮) সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নতুন কোনও খনন লিজ দেওয়া যাবে না। আরাবল্লি অঞ্চলে রয়েছে ২০টি অভয়ারণ্য ও চারটি টাইগার রিজার্ভ, যা এই পর্বতমালার পরিবেশগত গুরুত্বকে আরও প্রমাণ করে।
তিনি আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আরাবল্লি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর অভিযোগ কার্যত খারিজ হয়ে গেছে। আদালত যে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার সুপারিশ করেছে, তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের সংরক্ষণমূলক উদ্যোগের অনুমোদন রয়েছে।
তবে ফরেস্ট সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আরাবল্লিতে প্রায় ১০ হাজার খনন কার্যকলাপ চলমান, যা এই পর্বতমালাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সেন্ট্রাল এমপাওয়ার্ড কমিটি (CEC) সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইলেও কেন্দ্রের যুক্তি, রাজস্থানে রিচার্ড বারফি গাইডলাইন অনুযায়ী ১০০ মিটারের বেশি উচ্চতার গঠনগুলিকেই আরাবল্লির অংশ হিসেবে ধরা হয়।
সব মিলিয়ে, আরাবল্লি সংরক্ষণ বনাম খনন বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক-প্রশাসনিক তর্ক এখনও জারি আছে।




















