
নিউজ ডেস্ক,পশ্চিম বর্ধমান : আর্থিক তছরূপের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হলো জেমুয়া ভাদুবালা স্কুলের শিক্ষক বামাকালী মন্ডলকে । শুক্রবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলো অভিযুক্ত শিক্ষক বামাকালী মন্ডলকে ।
বেশ কয়েকমাস ধরে জেমুয়া ভাদুবালা বিদ্যাপীঠের এই শিক্ষককে নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছিল, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায় । স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়নুল হকের অভিযোগ, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মাস মাইনের টাকার হিসেবে ব্যাপক গরমিল ধরা পড়েছিল, বেশ কয়েকবার হিসেব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বামাকালী মণ্ডলকে বলা হয়েছিল ।
পুজোর আগেও এই ইস্যুতে স্কুলের মধ্যেই জেমুয়া ভাদুবালা বিদ্যাপীঠ স্কুলের শিক্ষক বামাকালী মণ্ডলকে ঘিরে ধরে টাকা ফেরতের দাবীতে ঘেরাও করে রেখেছিল ছাত্র ছাত্রীরা । সেইবার স্কুল ছুটির পর নিউটাউনশীপ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসে অভিযুক্ত ঐ শিক্ষককে । ঘরে ফিরে অভিযুক্ত ঐ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ।
সেখানেও স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা নজিরবিহীনভাবে মহকুমা হাসপাতালে ঢুকে বামাকালী মণ্ডলকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে, টাকা ফেরতের পাশাপাশি কেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়নুল হক ও ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে মারধর হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন বামাকালী বাবুকে তা নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকে ।
বিধাননগর ফাঁড়ির পুলিশ কোনোক্রমে সেইবার ছাত্র ছাত্রীদের হাসপাতাল থেকে বের করে এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে । বামাকালী মন্ডলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জেমুয়া ভাদুবালা স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়নুল হক । বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ফের শুরু হয় স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ ।
স্কুল ছুটির পরও শিক্ষক শিক্ষিকাদের আটকে রেখে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্র ছাত্রীরা, যে বিক্ষোভ চলে রাত্রি আটটা পর্যন্ত । ছাত্রছাত্রীদের দাবী ছিল যখন অভিযুক্ত শিক্ষক বামাকালী মন্ডল স্কুলে এসেছেন তখন তিনি সব হিসেব বুঝিয়ে দিয়ে স্কুল ছাড়বেন, আর যতক্ষণ উনি হিসেব না দেবেন ততক্ষন সবাই স্কুলে থাকবেন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়নুল হক দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অনির্বান কোলেকে ফোনে সব জানান, ফোনে জানানো হয় আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি পূর্ব অভিষেক গুপ্তকে । ঘটনাস্থলে আসে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ । কিন্তু এতেও পরিস্থিতি ঠান্ডা না হওয়ায় মহকুমা শাসকের নির্দেশে লাউদোহার বিডিও মৃণালকান্তি বাগচীকে স্কুলে পাঠান, খবর পেয়ে ছুটে আসেন জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ্য সুজিত মুখোপাধ্যায় ।
দুই জনেই ছাত্র ছাত্রীদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি. নিউটাউনশীপ থানার পুলিশ এরপর স্কুলে ঢুকে বামাকালী মন্ডলকে বাইরে বের করতে গেলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ।
রীতিমতো স্কুলের মেন গেটে তালা মেরে দিয়ে পুলিশকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু করে দেয় ছাত্র ছাত্রীরা, এমনকি বিডিও মৃনাল কান্তি বাগচী ও জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ্য সুজিত মুখোপাধ্যায় এই সময় স্কুলের গেটে ছাত্রছাত্রীদের বোঝাতে এলে পুলিশের সাথে সাথে তাদেরও ঘিরে ধরে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে ছাত্রছাত্রীরা ।
ছাত্রছাত্রীদের দাবী ছিল পুলিশ বামাকালী স্যারকে নিয়ে চলে গেলে তাদের হিসেব কে বোঝবে । একটা সময় পরিস্থিতি বেশ ঘোরালো হয়ে ওঠে, স্কুলের গেটের বাইরে তখন ভিড় জমায় স্থানীয় বাসিন্দারাও । কোনোক্রমে পুলিশ বামাকালী মণ্ডলকে বাইরে বের করে নিলেও পুলিশ গাড়ীর পেছনে ধাওয়া করে ছাত্রছাত্রীরা ।
শেষ পর্যন্ত রাত্রি আটটার পর ছাত্রছাত্রীদের ঘেরাও মুক্ত হয় জেমুয়া ভাদুবালা স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা । শুক্রবার সকালে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে আসা হয় অভিযুক্ত শিক্ষক বামাকালী মণ্ডলকে, তার বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ শুধু ভিত্তিহীন , তা নয় রীতিমতো ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন বামাকালী মন্ডল ।



















