
নিজস্ব সংবাদদাতা,বীরভূম,২৮ শে আগস্ট : কাঠের উনুনে তারা মায়ের ভোগ রান্না বন্ধ হয়ে এবার থেকে সৌর উনুনেই রান্না হতে চলেছে মা তারার ভোগ। তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (টিআরডিএ) গঠন হওয়ার পর তারাপীঠকে কংক্রিটে জঙ্গল মুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে পরিকল্পনা মত মূল মন্দিরকে অক্ষত রেখে অফিস, রান্নাঘর ভেঙ্গে মন্দির চত্বরকে খোলামেলা করার কাজ শুরু হয়। মন্দিরের চারধারে তৈরি হয় আণ্ডার গ্রাউণ্ড। তারই একদিকে তৈরি ভোগ ঘর।
কথিত আছে, পাল রাজত্বের সময়কালে শুক্লা চর্তুদশী তিথিতে জয়দত্ত সদাগর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন।স্বপ্নাদেশে তিনি শ্মশানের শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় পঞ্চমুন্ডির আসনের নিচে থেকে মায়ের শিলামূর্তি উদ্ধার করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পুজোর পাশাপাশি নিত্য ভোগের প্রচলন করেন। সেই ভোগের প্রচলনের পর প্রাচীন কাল থেকেই কাঠের উনুনে সেই ভোগ রান্না হয়ে আসছিল। জ্বালানি কাঠের মাধ্যমে ভোগ রান্নার ফলে মায়ের গর্ভগৃহের দেওয়ালে যেমন কালো আস্তরণ জমছিল, ঠিক তেমনই কাঠের ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণও হচ্ছিল। তা রুখতেই সৌর আলোয় মায়ের ভোগ রান্নার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেজন্য তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন সংস্থাকে পৃথকভাবে ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য সরকার।
কলকাতার একটি সংস্থা মন্দিরের সোলার মেশিন বসিয়ে আণ্ডার গ্রাউণ্ডে ‘সোলার স্টিম কুকিং সিস্টেম’-এর কাজ শুরু করে। গত জানুয়ারি মাসে রামপুরহাটে প্রশাসনিক সভা করতে এসে যার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরজমিনে তা চাক্ষুষও করেন। ভোগ-গৃহের পাশে সাড়ে চার মিটার উচ্চতার দু’টি ডিস বসানো হয়েছে। সেগুলির ব্যাসার্ধ ৫.২ মিটার। সেগুলির পাশে সূর্যের তাপ ধরে রাখার ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে উৎপন্ন ‘স্টিম’ ৩০ মিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে আণ্ডার গ্রাউণ্ডে ভোগ-গৃহের সোলার উনুনে পৌঁছবে। দিনে ৩০০০ এর বেশি লোকের রান্না করা যাবে এই উনুনে। তবে একটি কাঠের উনুন রাখা হবে চিরাচরিত প্রথার জন্য মায়ের ভোগের ক্ষেত্রে।
মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, কোজাগরী লক্ষীপুজোর দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর বারোটার মধ্যে মা তারার ভোগ রান্না করা হয়। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় রাতে ভোগ রান্না করা হয়। নিত্যদিন মা তারাকে খিচুড়ি, পাঁচ রকম ভাজা, তরকারি ও পায়েসের ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রতিদিন মা তাঁরার ভোগে থাকে পোলাও, অন্ন, খিচুড়ি, পাঁচ রকম ভাজা, তিন-চার রকম তরকারি, বলির পাঁঠার মাংস, মাছ ভাজা, চাটনি ভোগ নিবেদন করা হয়। নতুন পদ্ধতিতে আরও বেশি ভক্তের ভোগ রান্না করা যাবে। সৌর উনুনে অপ্রচলিত শক্তি যেমন কাজে লাগানো যাবে। তেমনই হবে পরিবেশবান্ধবও।
তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক তারাময় মুখোপাধ্যায় জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় নব রূপ পেয়েছে তারাপীঠ মন্দির। এটি তারই একটি অঙ্গ। এখন থেকে প্রাচীন এই মন্দির রক্ষা আরও দৃঢ় যেমন হলো, পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও বন্ধ হলো।”



















