ইউরোপ ও আমেরিকার পর এবার উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য জোরদারে উদ্যোগ ভারতের

ইউরোপ ও আমেরিকার পর এবার উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য জোরদারে উদ্যোগ ভারতের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দেশ – কিছু দিন আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করেছে নয়াদিল্লি। তার পরেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আবহে এবার পশ্চিম এশিয়ার উপসাগরীয় সহযোগিতামূলক পর্ষদ বা গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করল ভারত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মঞ্চে ভারতের কৌশলগত বিস্তার আরও এক ধাপ এগোল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান এবং বাহরিন—এই ছ’টি দেশ নিয়ে গঠিত জিসিসি। ভারতের সঙ্গে এই জোটের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আগেই রয়েছে। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে সেই বাণিজ্যের পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ১৭ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারে। সম্প্রতি শুরু হওয়া আলোচনার মূল লক্ষ্য এই সম্পর্ককে আরও গভীর করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে এগোনো।
এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে জিসিসি-র অন্তর্ভুক্ত ছ’টি দেশে শুল্ক ছাড়াই পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাবে ভারত। অর্থাৎ, ভারতীয় পণ্যের জন্য পশ্চিম এশিয়ার বাজার আরও সহজ ও লাভজনক হয়ে উঠবে। গত বৃহস্পতিবারই জিসিসি-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে আলোচনার প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
চুক্তি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পীযূষ গোয়েল বলেন, পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের সঙ্গে এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দু’পক্ষের মধ্যে সেই সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়বে।
মন্ত্রী আরও জানান, খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। অন্যদিকে, জিসিসি-র দেশগুলি মূলত তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে এগিয়ে। ফলে এই চুক্তির মাধ্যমে একে অপরের চাহিদা পূরণ হবে এবং উভয় পক্ষই লাভবান হবে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রসংঘের উপদেষ্টা জেফ্রি স্যাক্সও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল ভারতের জন্য একটি বড় বাজার। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়াও ভারতের অর্থনৈতিক বিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাই শুধুমাত্র আমেরিকার বাজারের উপর নির্ভর না করে বহুমুখী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই ভারতের জন্য বেশি লাভজনক হবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top