দেশ -;ভারত ও ইথিওপিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতিহাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হল। মঙ্গলবার ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘দ্য গ্রেট অনার নিশান অব ইথিওপিয়া’-এ ভূষিত হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলির উপস্থিতিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মান গ্রহণ করেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে ইথিওপিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং বিশ্বনেতা হিসেবে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিশ্বের প্রথম কোনও রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই সর্বোচ্চ ইথিওপিয়ান সম্মান পেলেন।
এই সম্মান গ্রহণের পর সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ‘দ্য গ্রেট অনার নিশান অব ইথিওপিয়া’ পুরস্কার পেয়ে তিনি গর্বিত এবং এই সম্মান তিনি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষকে উৎসর্গ করছেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার দেশ ইথিওপিয়া থেকে এই সম্মান গ্রহণ করা তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের। গভীর বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করেছেন বলেও জানান।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এবং সে দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, দেশের ঐক্য ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আবি আহমেদের নেতৃত্ব এবং সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি।
বক্তব্যে জাতি গঠনে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় শিক্ষকরা ইথিওপিয়ার শিক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এই সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই সম্মান তিনি কেবল নিজের জন্য নয়, বরং সেই সব ভারতীয় ও ইথিওপিয়ান নাগরিকদের উদ্দেশে উৎসর্গ করছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে কাজ করে চলেছেন। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে তিনি এই সম্মানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সম্মান প্রদান ভারত–ইথিওপিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একই সঙ্গে এটি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ইতিবাচক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার দিকেও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।




















