ইন্দোরের পর গান্ধীনগরেও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়, বিষাক্ত জল খেয়ে ১০০-র বেশি টাইফয়েড আক্রান্ত

ইন্দোরের পর গান্ধীনগরেও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়, বিষাক্ত জল খেয়ে ১০০-র বেশি টাইফয়েড আক্রান্ত

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দিল্লী – একের পর এক বিজেপি শাসিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের রাজ্যে জনস্বাস্থ্য পরিষেবার ভয়াবহ ছবি সামনে আসছে। ইন্দোরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাটে বিষাক্ত জল পান করে অসুস্থ হয়ে পড়লেন সাধারণ মানুষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদীয় এলাকা গান্ধীনগরের পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে মন্ত্রীকে নিজেকেই।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পাঁচ দিনে গুজরাটের রাজধানী গান্ধীনগরে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে শিশু-সহ মোট ১০৪ জন রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংক্রমণের মাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সিভিল হাসপাতালে যান গুজরাটের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি।
রোগী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে উপ-মুখ্যমন্ত্রী জানান, আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ২২ জন ডাক্তারের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডেপুটি কালেক্টর-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সার্বিক পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাংঘভির কথায়, প্রশাসন চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে এবং রোগী ও তাঁদের পরিবারকে উন্নত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রোগীদের পরিবারের জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রশাসনিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত তিন দিনে টাইফয়েডের সংক্রমণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু এবং তাঁদের অধিকাংশকে শিশু বিভাগে ভর্তি করতে হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কালেক্টর ও মেয়র ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালের সব পরিষেবা ও পরিকাঠামোর তদারকি করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে সিভিল হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ মিতা পারিখ জানিয়েছেন, বর্তমানে ভর্তি থাকা সব রোগীর অবস্থাই স্থিতিশীল। তবে আক্রান্ত এলাকা থেকে সংগৃহীত জলের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সেই জল পান করার জন্য মোটেই নিরাপদ নয়। এর পরই গান্ধীনগর পুর কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করতে আক্রান্ত এলাকায় ঘরে ঘরে সমীক্ষা শুরু করেছে। বাসিন্দাদের জল গরম করে খাওয়ার এবং শুধুমাত্র রান্না করা খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেই ভারতের পরিচ্ছন্নতম শহর হিসেবে পরিচিত ইন্দোরে নলবাহিত জল পান করে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। এখনও সেখানে ২০০-রও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেই ঘটনার পর গান্ধীনগরের এই পরিস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পানীয় জল ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মান নিয়ে। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ চড়া দামে পানীয় জল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা জনজীবনের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top