বিদেশ -;মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারত ইরানের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থাটি ইতিমধ্যেই “ধারণাগতভাবে” চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, চাইলে চিনও এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে এবং আমেরিকা তাতে আপত্তি করবে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা চিনকে স্বাগত জানাই। আমরা ইতিমধ্যেই চুক্তি করেছি। ভারত এতে আসছে এবং তারা ইরান থেকে তেল না কিনে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ইতিমধ্যেই সেই চুক্তি করেছি, অন্তত চুক্তির ধারণাগত কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তার এক দিন আগেই আমেরিকা নয়াদিল্লিকে জানিয়েছিল যে, শীঘ্রই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা পুনরায় শুরু করা যেতে পারে। মূলত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমলে যে প্রভাব পড়তে পারে, তা সামাল দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার জন্য ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে রাশিয়ার তেল রপ্তানি থেকে আয় কমানো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নতুনভাবে সাজানোর কৌশলের অংশ হিসেবে পরে সেই অবস্থান বদল করে মার্কিন প্রশাসন।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর উপর চাপ বাড়াতে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা দেশগুলির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই তালিকায় ভারতের নামও ছিল। এরপর থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করে আমেরিকা। পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও করছে ওয়াশিংটন, এমনটাই খবর।
যদিও এই গোটা আলোচনা প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন অর্থ দফতর কোনও মন্তব্য করতে চায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার জন্য নিযুক্ত আমেরিকার নতুন শীর্ষ কূটনীতিক লরা এফ ডোগু শনিবার কারাকাসে পৌঁছেছেন। প্রায় সাত বছর পর ভেনেজুয়েলায় ফের দূতাবাস চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। লরা ডোগু বর্তমানে কলম্বিয়ায় অবস্থিত ইউএস ভেনেজুয়েলা অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কারাকাসে তাঁর উপস্থিতিকে মার্কিন-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সালে আমেরিকা ভেনেজুয়েলা থেকে তাদের কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করে নিয়ে দূতাবাসের কাজকর্ম স্থগিত করেছিল।
এ মাসের শুরুতেই বহু বছর পর প্রথমবার ভেনেজুয়েলা সফর করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি প্রতিনিধি দল। চলতি সপ্তাহে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ধাপে ধাপে দূতাবাস পরিষেবা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে অস্থায়ী দূতাবাস খোলার বিষয়টিও থাকতে পারে।




















