ইরানে ফের বড়সড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানে ফের বড়সড় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


স্থান: ওয়াশিংটন, আমেরিকা

মার্কিন-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলতে থাকা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আট মাসে পা দিলেও সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানে ফের বড়সড় সামরিক অভিযান চালানোর আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকা বা ইজরায়েল নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ও যোগাযোগের কেবলগুলিকে নিশানা করার পরিকল্পনা করছে ইরানের বাহিনী বলেও দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার ফ্লোরিডায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা হয়তো আবারও একটা ছোট্ট ‘এপিক ফিউরি’ ঘটাতে পারি।” উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর মার্কিন সামরিক বাহিনী এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। নতুন করে অভিযানের সম্ভাবনার কথা বললেও তার পরিধি বা সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকা চাইলে অত্যন্ত দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে। তাঁর কথায়, “প্রশ্ন হল, আমরা কি এটা এখনই শেষ করে দেব, নাকি এই সংঘাতকে ধীরে ধীরে নিজের গতিতে স্তিমিত হতে দেব?” আন্তর্জাতিক বাজার এবং জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে এখনও স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানি তেল পরিবাহিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা যা চাইছি, তার সবই পাচ্ছি।”

এদিকে, আমেরিকার আসন্ন কংগ্রেসের মিডটার্ম নির্বাচনকে ঘিরেও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না এবং তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলছে। তবে সম্প্রতি ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মিডটার্ম নির্বাচনের পর ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিতে নতুন করে বিধ্বংসী বিমান হামলার পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে আমেরিকা ও ইজরায়েলি সেনা।

সব মিলিয়ে, একদিকে সামরিক অভিযানের নতুন হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি—দুইয়ের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লেও কূটনৈতিক আলোচনা পরিস্থিতি কতটা বদলাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top