বিদেশ – ইরান-ইজরায়েল সংঘাত গোটা বিশ্বের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, তার আঁচ পৌঁছেছে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে। রবিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবার তেলের দাম এতটা বেড়ে গেল।
রবিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে দেখা যায়। ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude) নিউইয়র্কে সন্ধ্যার দিকে ব্যারেলপিছু ১০৪ ডলারেরও বেশি দামে পৌঁছায়। অন্যদিকে আমেরিকার প্রধান সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (West Texas Intermediate) প্রায় ১০৮ ডলারে উঠে যায়। গতকাল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১২.৬ শতাংশ বেড়ে ১০৪ ডলারে পৌঁছেছে, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহেই মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে, যা ১৯৮৩ সালে তেলের ফিউচার ট্রেডিং শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে তেল উৎপাদন ও পরিবহণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কুয়েত, যা OPEC-এর পঞ্চম বৃহত্তম উৎপাদক দেশ, ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলকভাবে তেল উৎপাদন ও রিফাইনারির কাজ কমাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের হুমকির কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরাকেও তেল উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে দৈনিক প্রায় ১৩ লক্ষ ব্যারেলে নেমে এসেছে। যুদ্ধের আগে দক্ষিণের তিন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৩ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন হত। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) তাদের সমুদ্রের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখছে। দেশটির জাতীয় তেল সংস্থা (Abu Dhabi National Oil Company) জানিয়েছে, সংরক্ষণ ক্ষমতা বিবেচনা করে উৎপাদনের মাত্রা সামঞ্জস্য করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহণ হয়। যুদ্ধের কারণে অনেক তেলবাহী জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলায় তেল রফতানির গতি কমে গেছে। ফলে অনেক জায়গায় তেল জমে থাকলেও তা গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে না। সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও মেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ প্রায় জেতা হয়ে গেছে দাবি করলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। মার্কিন প্রশাসনের জ্বালানি বিষয়ক আধিকারিক জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।



















