ইরান নীতি নিয়ে মতভেদ, ট্রাম্প প্রশাসন থেকে ইস্তফা জো কেন্টের

ইরান নীতি নিয়ে মতভেদ, ট্রাম্প প্রশাসন থেকে ইস্তফা জো কেন্টের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন জো কেন্ট। ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান পদে থাকা কেন্ট জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং সম্ভাব্য যুদ্ধের বিরোধিতার কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কেন্ট বলেন, তিনি ‘নৈতিকভাবে’ এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না। তাঁর দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনও তাত্ক্ষণিক হুমকি ছিল না। বরং ইজরায়েল এবং কিছু প্রভাবশালী মার্কিন গোষ্ঠীর চাপেই এই সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা যখন ক্রমেই বাড়ছে, সেই সময়েই এই পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টির গুরুত্ব বেড়েছে।
ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান হিসেবে কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্বে ছিলেন। এই সংস্থা দেশের সন্ত্রাসবাদী হুমকি বিশ্লেষণ এবং তা মোকাবিলার কাজ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিরক্ষা দফতর এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনও করে থাকে। ফলে এই পদত্যাগ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইস্তফার পাশাপাশি কেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি চিঠিও পাঠান। সেখানে তিনি লেখেন, ২০১৬, ২০২০ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প যে নীতির কথা বলেছিলেন, তা তিনি সমর্থন করেন। তবে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি ট্রাম্পকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কূটনৈতিক পথই বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারত।
এদিকে, এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ক্ষেত্রে আমেরিকা আগে পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর দাবি, ‘আমরা না করলে ইরানই আগে হামলা চালাত।’ পাশাপাশি তিনি আরও মন্তব্য করেন, প্রয়োজনে তিনি ইজরায়েলকে আগাম পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।
উল্লেখ্য, কেন্ট গত বছর জুলাই মাসে মার্কিন সিনেটে ৫২-৪৪ ভোটে অনুমোদন পেয়ে এই পদে বসেন। তাঁর নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক ছিল, কারণ অতীতে ডানপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। রাজনীতিতে আসার আগে কেন্ট মার্কিন সেনাবাহিনীতে বিশেষ বাহিনীর সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন এবং বহুবার বিদেশে মোতায়েন ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাতেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তাঁর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে ইরান নীতি, যুদ্ধের যৌক্তিকতা এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top