দেশ – ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। গত ছয় দিনের সংঘাতের পর থেকেই ভারতীয়দের মনে প্রশ্ন উঠেছে— দেশে কি পেট্রোপণ্যের দাম বাড়বে? মজুত কি কমে যাবে? কালোবাজারির আশঙ্কা কি বাড়বে? এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে Government of India। সূত্রের খবর, কোনও পরিস্থিতিতেই দেশের অভ্যন্তরে তেল ও গ্যাসের দাম যাতে হঠাৎ বেড়ে না যায়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিচ্ছে কেন্দ্র।
এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে United States ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে Russia থেকে তেল আমদানির পথ আপাতত খোলা থাকছে এবং দেশীয় বাজারে জ্বালানির যোগান বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
সরকারিভাবে এখনও পেট্রোপণ্যের দাম বাড়া নিয়ে কোনও ঘোষণা হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক দেশের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে New Delhi। কেন্দ্রের দাবি, সেই আলোচনার ফলেই ভারতে তেল ও অন্যান্য শক্তিসম্পদের সরবরাহ আপাতত স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।
বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যেই তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর বড় কারণ হলো Strait of Hormuz–এর অস্থির পরিস্থিতি। ভারতের মোট তেল চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল এবং সেই আমদানির প্রায় অর্ধেকই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে আসে। ফলে এই পথ বাধাগ্রস্ত হলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল।
কেন্দ্রের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই রাশিয়া থেকে তেল কেনার সাময়িক ছাড়পত্র মিলেছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল দ্রুত ভারতের হাতে পৌঁছতে চলেছে এবং আগামী এক মাসে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এর ফলে দেশীয় বাজারে পেট্রোপণ্য নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
তবে এর মধ্যেই সম্প্রতি দেশে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাই কেন্দ্রের আশ্বাস সত্ত্বেও ভবিষ্যতে গৃহস্থালির গ্যাসের দাম বাড়বে কি না— সেই প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।




















