ইরান সংঘাতে ইতি নয়, দীর্ঘ লড়াইয়ের ইঙ্গিত ট্রাম্পের; ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে পেন্টাগনের সতর্কবার্তা

ইরান সংঘাতে ইতি নয়, দীর্ঘ লড়াইয়ের ইঙ্গিত ট্রাম্পের; ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে পেন্টাগনের সতর্কবার্তা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে এখনই ইতি টানার কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামলা-পাল্টা হামলার এই সংঘাত পঞ্চম দিনে পড়তেই উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে পেন্টাগন। তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে আশঙ্কা, টানা অভিযান চালাতে গেলে ক্ষেপণাস্ত্র মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।
শুক্রবার বিকেলে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় তিনি সন্তুষ্ট নন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়। মার্কিন অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষ সামরিক আধিকারিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে ইরান বাহরিন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্রভান্ডারের ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারসেপ্টর মিসাইল—যা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়—সেগুলির সরবরাহ সীমিত। আগেই ইজরায়েল ও ইউক্রেনকে বিপুল সামরিক সহায়তা দেওয়ায় মার্কিন ভাণ্ডারের একটি অংশ কমে এসেছে। গত বছরের সংঘাতে আমেরিকা তাদের মোট THAAD ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যবহার করেছিল, যা প্রায় ১৫০টি ক্ষেপণাস্ত্রের সমান।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, JDAM স্মার্ট বোমা, SM-3 অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং অন্যান্য উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুতেও চাপ পড়তে পারে। যেখানে ইরান মাসে ১০০-রও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে বলে দাবি, সেখানে আমেরিকা মাসে মাত্র ৬-৭টি ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন করতে সক্ষম—এই অঙ্কই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
গত শনিবার ইজরায়েল-আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। সূত্রের খবর, মার্কিন বাহিনীর প্রথম ২৪ ঘণ্টার অভিযানে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬,৯০০ কোটি টাকার সমান। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এই সংঘাত অন্তত এক মাস বা তারও বেশি সময় চলতে পারে।
অন্যদিকে, Center for New American Security-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার USS Gerald R. Ford-সহ একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় দৈনিক খরচ প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন ডলার। বিমান মোতায়েন, যুদ্ধজাহাজ পাঠানো এবং আঞ্চলিক ঘাঁটি সক্রিয় রাখার প্রস্তুতিতেই প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। উল্টে দুই পক্ষই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—হামলা বন্ধ না হলে সংঘাত চলবেই। ফলে সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক—তিন দিক থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে বলে মত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top