অফ বিট – উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন ও গাড়োয়াল অঞ্চলের পাহাড়ি গ্রামে বসন্তের আগমনে এক অনন্য উৎসব পালিত হয়—‘ফুল দেই’। চৈত্র মাসের শুরুতে শুরু হওয়া এই প্রাচীন লোক-উৎসবে গ্রামের ছোট শিশুদের হাতে ঝুড়ি ভরা ফুল থাকে। তারা গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ফুল ছড়িয়ে দেয় এবং সবার জন্য শুভেচ্ছা বুনে দেয়। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা।
শিশুরা বাড়ির চৌকাঠে ফুল রেখে ‘ফুল দেই, ছম্মা দেই’ ধাঁচের লোকগাথা গান গায়। সারমর্মে এতে বলা হয়, ঘরবাড়ি ফুলে ফুলে ভরে উঠুক, সবার জীবন শুভ হোক এবং শস্যের ভাণ্ডার পূর্ণ হোক। বিনিময়ে বাড়ির মানুষ শিশুকন্যাদের গুড়, চাল বা মিষ্টি উপহার দেন। এই রীতি আনন্দ, ভালোবাসা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধার এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করে।
সম্প্রতি শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা সোশাল মিডিয়ায় এই উৎসবের কথা শেয়ার করে বলেন, “হ্যালোউইনে যেখানে শিশুরা ‘ট্রিক অর ট্রিট’ বলে মজা করে, সেখানে ‘ফুল দেই’ উৎসবে শিশুরা দাবি নয়, বরং আশীর্বাদ এবং ভালোবাসা বিলিয়ে দেয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান যুগে পরিবেশ সচেতনতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণের দিক থেকে এই উৎসবের শিক্ষা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।
উত্তরাখণ্ডের এই ফুলেল উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককেও তুলে ধরে। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই গ্রামগুলির উৎসবে অংশ নিয়ে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য অভিজ্ঞতা করার সুযোগ মিলবে।




















