দিল্লি – উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্য একটানা বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত। জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীরে মাতা বৈষ্ণোদেবী যাত্রার পথে কাটরায় এক বিশাল ভূমিধসে অন্তত ৩০ জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ২৩ জন আহত হয়েছেন।
ত্রিকুটা পাহাড়ের তীর্থযাত্রা পথটি ভূমিধসের কারণে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা রাতদিন উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। এর আগের দিনই, মঙ্গলবার বিকেলে, একই পথে আরেকটি ভূমিধসে ৯ জন তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভূমিধসের জেরে অসংখ্য সেতু, বিদ্যুতের লাইন এবং মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জম্মু-শ্রীনগর মহাসড়কও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (IMD) সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, জম্মু, সাম্বা, আখনুর, কাঠুয়া এবং উধমপুরের মতো এলাকায় বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি সহ ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি রিয়াসি, রামবান, ডোডা এবং বিল্লাওয়ার এলাকায়ও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
এদিকে হিমাচল প্রদেশের মানালিতে বিয়াস নদীর জল বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে নদীর প্রবল স্রোতে একটি বহুতল হোটেল, চারটি দোকান এবং একাধিক বাড়ি ভেসে গেছে। মানালি-লেহ মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শত শত মানুষ আটকা পড়েছেন। যদিও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
পাঞ্জাবের মাঝা অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গুরুদাসপুরের ডেরা বাবা নানক এলাকায় রবি নদীর বন্যার জল ধুসি বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার একর কৃষিজমি প্লাবিত করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একাধিক জেলার সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জলন্ধরে একটি কেন্দ্রীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ দল মোতায়েন করা হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটজনক। সেখানে ২২টি জেলার ৭০০টিরও বেশি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলগুলিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বারাণসীতে গঙ্গার জল বিপজ্জনকভাবে বেড়ে আবাসিক এলাকা ও মন্দিরগুলোতেও ঢুকে পড়েছে।
অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের ভিরারে এক ভূমিধসের ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এনডিআরএফ, দমকল বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ সক্রিয়ভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ক্রমাগত বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের ফলে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালালেও, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
