দিল্লি – দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা খেলেও পিছু হটছে না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। উন্নাও ধর্ষণ মামলায় প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত ও জামিন মঞ্জুরের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে সিবিআই। শুক্রবার সিবিআই স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায় খুঁটিয়ে দেখে দ্রুত বিশেষ অনুমতি আবেদন বা এসএলপি দায়ের করা হবে।
২০১৭ সালের বহুচর্চিত উন্নাও ধর্ষণ মামলায় ২০১৯ সালে ট্রায়াল কোর্ট কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আপিল বিচারাধীন থাকলেও, গত ২৩ ডিসেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট সেঙ্গারের সাজা স্থগিত করে জামিন মঞ্জুর করে। আদালতের যুক্তি ছিল, তিনি ইতিমধ্যেই সাত বছর পাঁচ মাস জেল খেটেছেন। এই সিদ্ধান্তেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সিবিআই।
এই মামলায় শুধু সিবিআই নয়, দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আগেই সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দায়ের হয়েছে। আইনজীবী অঞ্জলে প্যাটেল ও পূজা শিল্পকরের করা ওই আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রায়াল কোর্ট যেখানে স্পষ্ট বলেছিল অভিযুক্তকে স্বাভাবিক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জেলে থাকতে হবে, সেখানে হাইকোর্ট সেই পর্যবেক্ষণ উপেক্ষা করেছে। আবেদনকারীদের মতে, আইনের ব্যাখ্যা ও তথ্যপ্রমাণ বিচার—দুই ক্ষেত্রেই গুরুতর ভুল হয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কুলদীপ সিং সেঙ্গারের বিরুদ্ধে শুধু ধর্ষণের অভিযোগই নয়, একাধিক গুরুতর অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত। তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব, আর্থিক ক্ষমতা এবং অপরাধপ্রবণতার দিকটি আদালতের বিবেচনায় আনা হয়নি বলে অভিযোগ। বিশেষ করে নির্যাতিতার বাবাকে হেফাজতে খুনের ছক কষার অভিযোগ, যা বিচারাধীন অবস্থাতেই সামনে এসেছিল, সেই বিষয়টিও যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্ট অবশ্য জামিনের ক্ষেত্রে একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, সেঙ্গারকে ১৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ তিনজন জামিনদার দিতে হবে। তবে বাস্তবে এখনই তাঁর জেলমুক্তি হচ্ছে না। নির্যাতিতার বাবার হেফাজতে মৃত্যুর মামলায় তিনি ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং সেই মামলায় এখনও জামিন পাননি।
উল্লেখ্য, নাবালিকা নির্যাতিতাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন কুলদীপ সিং সেঙ্গার। পাশাপাশি নির্যাতিতার বাবার মৃত্যুর ঘটনাও দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ওই মামলায় তাঁর সাজা স্থগিতের আবেদন এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
সিবিআইয়ের বক্তব্য, এই ধরনের ভয়ংকর অপরাধে সাজা স্থগিত ও জামিন ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং সমাজের কাছে ভুল বার্তা দেয়। তাই দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়াই একমাত্র পথ বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। এখন শীর্ষ আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর গোটা দেশের।




















