দিল্লি – এসএসসি মামলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়েই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল—একজন ‘দাগি’ বা টেন্টেড প্রার্থীকেও পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, বহু অযোগ্য নাম ঢুকে পড়েছে তালিকায়। আর নথি যাচাইয়ের সময় এসএসসি চিহ্নিত করল ২৬৯ জন ‘দাগি’ প্রার্থীকে।
শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, নথি যাচাইয়ের সময় ধরা পড়েছে এই বিপুল সংখ্যক অযোগ্য প্রার্থী। শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন এমন বহু শিক্ষাকর্মী, যাঁদের আগেই ‘দাগি’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবুও তাঁরা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং পরবর্তী নথি যাচাইয়ের আবেদন করেছিলেন। কমিশন তাঁদের সবাইকে বাদ দিয়েছে।
এসএসসি জানিয়েছে, নথি যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে। কারও নজরে যদি আরও কোনও অযোগ্য প্রার্থী আসে, তা কমিশনকে জানাতে হবে। অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
উল্লেখযোগ্য, ২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল। একাই প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি যায়। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল—যাঁরা ‘দাগি’, তাঁরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না এবং তাঁদের চাকরির মেয়াদের বেতনও ফেরত দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই চলছে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া। কিন্তু পরীক্ষার পর প্রকাশিত মেধাতালিকা ঘিরে ফের দেখা দিল একই বিভ্রাট।
কমিশন সূত্রের খবর, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির মোট ৩৫টি বিষয়ের মধ্যে ৩১টির নথি যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ইন্টারভিউ চলছে। যে বিষয়গুলি এখনও বাকি, সেখানেও আরও ‘দাগি’ প্রার্থী ধরা পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে নথি যাচাই। তার পরই স্পষ্ট হবে—নতুন নিয়োগে আরও কতজন ‘দাগি’ প্রার্থী রয়েছে।




















