
বীরভূম: দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা। তবে এই সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও পঞ্চম দফার লকডাউন বা আনলক ১ পর্যায়ে ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে অফিস কাছারি, শপিংমল, ছোট বড় দোকান আর বিভিন্ন ধর্মীয়স্থান। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বেশ কয়েকটি মন্দির, মসজিদ, গির্জা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম তীর্থস্থান তারাপীঠ খুলছে না এখনই।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই অনুমোদন দিয়েছিলেন ১লা জুন থেকে ধর্মীয় স্থান খোলার বিষয়ে। কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ৮ই জুন থেকে খোলার বিষয়ে। তারপর থেকেই ধর্মীয়স্থানগুলি খুলতে শুরু করে। আর সে সময়ই তারাপীঠ মন্দির কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেয় এখনই মন্দির খোলা হবে না। জুন মাসের ১৪ তারিখ মন্দির কমিটির সদস্যরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন কবে মন্দির খুলবে। সেইমতো এদিন তারাপীঠে একটি বৈঠক হয়। আর বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আপাতত জনসাধারণের জন্য খোলা হচ্ছে না তারাপীঠ মন্দির।
কবে খুলবে তারাপীঠ মন্দির?
মূলত তারাপীঠ মন্দির কমিটি মন্দির খোলার বিষয়ে তাকিয়ে রয়েছে দুদিন পরেই মুখ্যমন্ত্রীদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের দিকে। এই বৈঠক নিয়ে এমনিতেই দেশজুড়ে শোরগোল পড়েছে পুনরায় লকডাউন জারি হওয়ার জল্পনায়। আর সেই মতো মন্দির কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সাথে মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয় তার উপর ভিত্তি করে আবার নতুন করে একটি বৈঠক ডাকার পরই মন্দির খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ আগামী ১৫ই জুন থেকে তারাপীঠ মন্দির খোলা হতে পারে বলে যা মনে করা হচ্ছিল তা আপাতত স্থগিত থাকছে। স্থগিত থাকছে জুন মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত।
এদিনের বৈঠক এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় জানান, “আমরা খবর পাচ্ছি দেশে পুনরায় লকডাউন জারি হতে পারে। আর এইসব বিচার-বিবেচনা করে আপাতত আমরা পুনরায় মন্দির খোলার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছি ২০ তারিখ পর্যন্ত। আমরা এখন প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। ২০ তারিখের পর আবার নতুন করে একটি বৈঠক করে সকলকে জানিয়ে দেওয়া হবে মন্দির কবে খোলা হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, মন্দির খোলার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার পাশাপাশি তারাপীঠ মন্দির কমিটি ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে মন্দিরে প্রবেশের আগে স্যানিটাইজার ট্যানেল বসিয়েছে।পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই করোনা আবহে কেউ গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং স্পর্শ করতে পারবেন না মা তারাকে।



















