এখনও শুরু হয়নি গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ! ঘুম ছুটেছে গঙ্গাপাড়ের মানুষজনের

এখনও শুরু হয়নি গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ! ঘুম ছুটেছে গঙ্গাপাড়ের মানুষজনের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


মালদা – কালীপুজোর পর থেকে বর্ষা শুরুর আগে পর্যন্ত শুখা মরশুম হিসাবে বিবেচিত হয় ৷ রতুয়া এক নম্বর ব্লকের গঙ্গা ভাঙন দুর্গত মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষজন অনেকদিন ধরেই দাবি জানাচ্ছেন, শুখা মরশুমে গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ করা হোক ৷ তাতে মাটি কিছুটা বাঁচবে ৷ কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের দাবিকে কোনও গুরুত্বই দেয় না প্রশাসন৷ গত বছর ভাঙন রোধের কাজ হয়নি৷ এবার এখনও পর্যন্ত সেই কাজ শুরু হয়নি৷ শুরু যে হবে তারও কোনও নিশ্চয়তাও নেই। মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীকান্তটোলা গত বছরের ভাঙনে প্রায় নিশ্চিহ্ন৷ এখন গোটা দশেক ঘর রয়েছে পুরো গ্রামে৷ একজন গ্রামবাসি জানান, দু’বছর ধরে আমরা আশা করে রয়েছি ভাঙন রোধের কাজ হবে। কিন্তু কোনও কাজ হয় না। প্রশাসন কিংবা সরকার আমাদের কিছুই দিচ্ছে না৷ আমাদের আর কী চাওয়ার আছে ? আমাদেরও ঘর আর গ্রাম ছেড়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নিতে হবে ৷”মন্দির থেকে এখন নদীর দূরত্ব 25 মিটারের বেশি নয়৷ 50 মিটার দূরে মুলিরামটোলা প্রাথমিক স্কুল। এবার স্কুলটাও আর থাকবে কি না সন্দেহ রয়েছে৷ কালীপুজোর পর থেকে ভাঙন রোধের কাজ করার ভালো সময়৷ ছ’মাস শুখা মরশুম চলে৷ এখন সময় পেরোতে চলছে৷ আর কবে ভাঙন রোধের কাজ করবে। শ্রাবণ মাসে ? যখন নদী পাড় কাটবে, বন্যা হবে, তখন ? এখনই সেই কাজ করার সময়। চৈত্র মাস শুরু হয়ে গিয়েছে৷ বৈশাখ আসছে। এখনও কাজ শুরু করলে কিছুটা রক্ষা ছিল ৷ প্রশাসন শুধু তারিখ দিয়ে চলেছে ৷” ভাঙন রোধের কাজ হবে কি না তা নিয়ে মমতাদিদি কিংবা মোদিদাদা এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি৷ কারও কোনও চিন্তা নেই। বাড়ি পড়ছে, পড়ুক। লোক মরছে, মরুক। স্থানীয় নেতার পয়সা হচ্ছে, হোক। মোদ্দা কথা, মানুষ মরছে আর নেতার পয়সা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ভাঙন রোধের কোনও কাজই হয়নি ৷ কেউ কেউ বলছে, এখানে নাকি 21 কোটি টাকার কাজ হয়েছে ৷ অথচ মাত্র 21টা বস্তা নদীতে পড়ে রয়েছে ৷”


তাঁর কথায়, “এখনই কাজ করার সময় ৷ কিন্তু এখনও কাজ হচ্ছে না ৷ যখন ভাদ্র মাসে বন্যা আসবে, তখন এমএলএ, এমপি আসবে। গালে হাত দিয়ে কথা বলবে৷ মানুষকে দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকার কাজ করাবে৷ সামান্য টাকার কাজ করিয়ে বাকি টাকা নিজেদের পকেটে ঢোকাবে। এই টাকা নেতা থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ার, অফিসার, সবার পকেটে যাচ্ছে ৷ দেশের সংবিধান অনুযায়ী ভারতের মানুষকে রক্ষা করার দায়িত্ব কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ৷ কিন্তু এরা বড়লোকের সরকার ৷ একটা বড় কোম্পানির লোক রাস্তা দিয়ে হাঁটলে ওর পিছনে 10টা পুলিশ থাকবে৷ কিন্তু সাধারণ মানুষ বিপদে পড়লেও তার পিছনে কেউ থাকবে না৷ এটা ভারতের কী ধরনের সংবিধান ? সংবিধান শুধু কি নামেই ? কাজের জন্য কি সংবিধান লেখানো হয়নি ? গরিবের জন্য সংবিধান উলটো হচ্ছে ৷ প্রশাসন এখন শুধু বড়লোকের জন্য, গরিবের জন্য নয় ৷”সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, “শুখা মরশুমেই ভাঙন রোধের কাজ হবে ৷ ইতিমধ্যে তার পরিকল্পনা তৈরি হয়ে গিয়েছে ৷ কয়েকদিনের মধ্যেই সেই কাজে হাত দেওয়া হবে ৷”

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top