রাজ্য- ‘এখন যুদ্ধের সময়’—এই বার্তা দেওয়ার মাত্র তিনদিনের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বড় সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দলীয় কো-অর্ডিনেটরদের নাম প্রকাশ করা হল। গত ২৬ ডিসেম্বর ভার্চুয়াল বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে খুব শিগগিরই সব বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটরের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হল সোমবার রাতে।
দলের চেয়ারপার্সন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদনক্রমে সোমবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই তালিকা প্রকাশ করে তৃণমূল। প্রাথমিকভাবে রাজ্যের ৩৫টি সাংগঠনিক জেলার অধীনে বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা হয়েছে। কোথাও একজন কো-অর্ডিনেটর একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব পেয়েছেন, আবার কোথাও এক একটি কেন্দ্রে আলাদা দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রয়েছেন। এই তালিকায় যেমন রয়েছেন প্রবীণ নেতা, সাংসদ ও বিধায়করা, তেমনই জায়গা পেয়েছেন যুব ও মহিলা নেতৃত্বও।
তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম চোখে পড়েছে বীরভূম জেলায়। বীরভূমের ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয়, বরং গোটা জেলা কোর কমিটিকেই সমগ্র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের মতে, জেলার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এই কো-অর্ডিনেটররা দলের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করবেন। তাঁরা সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বকে রিপোর্ট দেবেন এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা নেবে দল। নির্বাচনের আগে সংগঠনের ভিত মজবুত করাই এই নিয়োগের মূল লক্ষ্য।
উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সব জেলাতেই কো-অর্ডিনেটরদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং সমতল, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া—রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য দায়িত্ব বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, কো-অর্ডিনেটররা বুথস্তরের সংগঠন, জনসংযোগ, স্থানীয় সমস্যা ও ভোটার মনোভাবের উপর বিশেষ নজর রাখবেন। পাশাপাশি কোথাও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকলে তা দ্রুত শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হবে। ভোটের আগে এই কাঠামোর মাধ্যমে তৃণমূল আরও আক্রমণাত্মক ও সংগঠিতভাবে মাঠে নামতে চায়।
বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। ‘এখন যুদ্ধের সময়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখেই যে দল সরাসরি নির্বাচনী মোডে চলে গিয়েছে, কো-অর্ডিনেটর তালিকা প্রকাশ তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।




















