এডিবির সহায়তায় ৪৩০ মডেল স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি উন্নয়নে আরও ২,১৪৮ কোটি টাকার প্রকল্পে রাজ্যের অনুমোদন

এডিবির সহায়তায় ৪৩০ মডেল স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি উন্নয়নে আরও ২,১৪৮ কোটি টাকার প্রকল্পে রাজ্যের অনুমোদন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৩০টি মডেল স্কুল চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নির্মিত হবে Asian Development Bank-এর আর্থিক সহায়তায়। বৃহস্পতিবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী Bratya Basu।
মন্ত্রী জানান, ‘এনহ্যানসিং স্কুল এডুকেশন’ বা ‘স্কুলশিক্ষার সম্প্রসারণ’ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৩৪৯.৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ অর্থ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক এবং বাকি ৩০ শতাংশ বহন করবে রাজ্য সরকার। ইংরেজি ও বাংলা—দু’ভাষাতেই পাঠদান হবে এই মডেল স্কুলগুলিতে। তবে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে না। প্রতি ব্লকে একটি করে এবং ৮৭টি অনগ্রসর ব্লকে দুটি করে মোট ৪৩০টি বিদ্যমান স্কুলকে চিহ্নিত করে সেগুলিকেই মডেল স্কুল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে জানান, মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র নেতৃত্বে এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক শিক্ষাপদ্ধতি চালু করা। নতুন মডেল স্কুলগুলিতে স্মার্ট ক্লাসরুম, আধুনিক ল্যাবরেটরি, উন্নত ডিজিটাল পরিকাঠামো, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ক্রীড়া সুবিধা, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং প্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও ভোকেশনাল ট্রেনিং চালু করা হবে। শিক্ষাগত ঘাটতি পূরণে লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম ও ব্রিজ কোর্সও শুরু হবে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক ব্লেন্ডেড পেশাগত উন্নয়ন মডিউল চালুর কথাও জানান তিনি।
শুধু স্কুলশিক্ষাই নয়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নেও বড় প্রকল্পে সিলমোহর দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রায় ২,১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ৭০ শতাংশ অর্থ দেবে এডিবি এবং ৩০ শতাংশ দেবে রাজ্য। রাজ্যের তহবিল থেকে ৬৪৪.৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। পাঁচ বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী Chandrima Bhattacharya।
তিনি জানান, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিশুদের উন্নত শিক্ষাসামগ্রী ও পুষ্টির ব্যবস্থা এবং কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হবে। রাজ্যে বর্তমানে ১,৯১,৪৮১টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে প্রায় ২ লক্ষ কর্মী ও সহায়িকা কাজ করেন। তাঁদের সাম্মানিকও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
এদিকে, এপ্রিল মাসে রাজ্য সরকারি স্কুলগুলিতে পরীক্ষা চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের জন্য বহু স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মন্তব্য, স্কুলকে ‘ধর্মশালা’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়; এতে শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি হয়।
রাজ্যের দাবি, এই নতুন প্রকল্পগুলির মাধ্যমে স্কুলশিক্ষা ও প্রাথমিক স্তরের পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দক্ষতাভিত্তিক করে তোলা সম্ভব হবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top