উত্তর 24 পরগণা -;এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় এক লক্ষ মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে—এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় এমনিতেই উদ্বেগে রয়েছে মতুয়া সমাজ। তার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্য নতুন করে আতঙ্ক ও রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল।
সোমবার বনগাঁর গাড়াপোতায় বিজেপির একটি প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শান্তনু ঠাকুর বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে যদি ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের নাম বাদ যায়, সেখানে আমাদের এক লক্ষ লোকের নাম যদি বাদ যায়, তাহলে আমাদের এটুকু সহ্য করতে হবে, সহ্য করে নেওয়া উচিত।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে মুহূর্তেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়।
শান্তনু ঠাকুর আরও যুক্তি দেন, “ওদেশ থেকে এরা সকলে প্রাণ হাতে করে এসেছিল।” তাঁর এই বক্তব্যে অনেকেই মনে করছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মতুয়া সমাজের নাম বাদ যাওয়াকে কার্যত মেনে নেওয়ার বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
তবে একই সঙ্গে মতুয়া উদ্বাস্তুদের ভরসা দিতেও চেষ্টা করেন শান্তনু ঠাকুর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য সিএএ আইন করেছেন। সকলেই নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকার পাবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান সিএএ-এর মাধ্যমেই হবে।
এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “আমরা বহুদিন ধরেই বলে আসছি বিজেপি মতুয়াদের ভাঁওতা দিচ্ছে। আজ শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্যে সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছিল, মতুয়াদের একটি বড় অংশের নাম তালিকায় নেই। অভিযোগ, সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে গাইঘাটা এলাকায়। এসআইআর ও ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে এই মুহূর্তে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে চরম উৎকণ্ঠা ও রাজনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।




















