রাজ্য – এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বাতিল হওয়া কোনও ওবিসি সার্টিফিকেট ব্যবহার করা যাবে না। রাজ্যজুড়ে যখন এসআইআরের শুনানিপর্ব চলছে, ঠিক সেই সময়েই ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক ও আইনি দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত যেসব ওবিসি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল এবং যেগুলি কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বাতিল হয়েছে, সেগুলি এসআইআরের কোনও নথি হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী আধিকারিকদের।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের মার্চ মাসের পর প্রদত্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। যদিও সেই নির্দেশের পরেও পশ্চিমবঙ্গে পড়াশোনা, চাকরি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ওবিসি সার্টিফিকেট ব্যবহার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়টি নিয়েই সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়।
ওই মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, এসআইআরের নথি হিসেবে ওবিসি শংসাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত জাতীয় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে ২০১০ সালের মার্চ মাসের পর প্রদত্ত ওবিসি সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য কি না, তা জানাতে হবে কমিশনকে।
এরপরই বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, হাই কোর্টের নির্দেশে যেসব ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছে, সেগুলি এসআইআর সংক্রান্ত কোনও কাজেই ব্যবহার করা যাবে না। কমিশনের এই নির্দেশের ফলে রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়ায় নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।




















