রাজ্য – এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রাজভবনে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে একের পর এক অভিযোগ ও আক্রমণ শানান তিনি। বারবার তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।
শুভেন্দু জানান, প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রাজ্যপালের কাছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গত ২৯ জানুয়ারি মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষাতের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, ৬ ফেব্রুয়ারির আগে দেখা সম্ভব নয়। শুভেন্দুর দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন আধিকারিক নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন। তিনি রাজ্যপালকে অবহিত করে মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধও করেন।
শুভেন্দু আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যই হল এসআইআর প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করা। তাঁর কথায়, “এই নাটক এখন ধরা পড়ে গেছে।” নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনে নতুন পদ্ধতি এনেছে, কিন্তু রাজ্য সরকার তা কার্যকর করতে চাইছে না বলেই অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসাররা তৃণমূলের নির্দেশে সাধারণ মানুষকে বারবার ডেকে হয়রানি করছেন। বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও শুনানির নামে বিরক্ত করা হচ্ছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ বলে তিনি মনে করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তিনি সংসদ ভবন চত্বরকে ‘হাই সিকিউরিটি জোন’ উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশের ভূমিকাকে প্রশংসা করেন। তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মান দেখিয়েছে পুলিশ, তবে পুরো ঘটনাটিকে তিনি ‘ড্রামা’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, এর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে এবং স্বচ্ছ ভোটার তালিকা ছাড়া কোনও নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না।
এসআইআর আবহে মৃত্যু সংক্রান্ত অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, নির্বাচন কমিশনের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর মতে, এই মৃত্যুর দায় সম্পূর্ণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি যুক্তি দেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ কর্মী রাজ্যেরই, তবুও রাজ্য সরকার দায় এড়াতে কমিশনের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।
বিধানসভায় এসআইআর নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, প্রস্তাব এলে বিজেপি আলোচনায় অংশ নেবে। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাত্র এক ঘণ্টার আলোচনার সময় নির্ধারণকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, “এটা কি বিধানসভা, না কি দশকর্মা ভাণ্ডার?” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট যে, এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে।




















