এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপ? আরও এক বিএলও-র মৃত্যুতে প্রশ্ন মুর্শিদাবাদে

এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপ? আরও এক বিএলও-র মৃত্যুতে প্রশ্ন মুর্শিদাবাদে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

মুর্শিদাবাদ – ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার মধ্যে আরও এক বিএলও-র আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। একটানা কাজের চাপ, স্কুলের দায়িত্ব ও অতিরিক্ত প্রশাসনিক কর্তব্য একসঙ্গে সামলাতে গিয়েই কি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লেন মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের দিঘা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক জাকির হোসেন? বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়, এবং সেই থেকেই উত্তপ্ত এলাকা।

পরিবারের অভিযোগ, দিনের পর দিন স্কুলের পড়াশোনা ও বাড়তি এসআইআর-এর দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে মানসিক ও শারীরিক চাপ বেড়ে যাচ্ছিল জাকিরের। ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য গত কয়েকদিন ধরেই তিনি মাঠ পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ করে চলেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা জানান, হৃদরোগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্যে এসআইআর চলাকালীন বিএলওদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। অতিরিক্ত কাজের চাপে একাধিক বিএলও ভেঙে পড়ছেন বলে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ উঠছে। কিছুদিন আগেই নামখানার ফ্রেজারগঞ্জে দেবাশিস দাস নামে এক বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। একইভাবে কোন্নগরের এক বিএলওও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক ঘটনাটি মিলিয়ে রাজ্যে মোট চারজন বিএলও-র মৃত্যু ঘটল। এর আগে বর্ধমানের এক মহিলা বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে মারা যান। মালবাজার ও নদিয়ায় দুই বিএলও আত্মঘাতী হন—সেখানেও পরিবার অভিযোগ করে কাজের চাপের কথা।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, কোনও বিএলও-র মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং অসুস্থ হলে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এভাবে চলতে থাকলে আর কতজনের প্রাণ যাবে?

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top