রাজ্য – লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশন চাপের মুখে পড়ার পরই নবান্নে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। মঙ্গলবার এই বৈঠকে রাজ্যের সব জেলাশাসককে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী বৈঠকটি ডাকলেও, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
সুপ্রিম কোর্ট এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকেও একাধিক নির্দেশ দিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় লোকবল দিয়ে সহায়তা করা এবং এসআইআর পর্বে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। এই দুই বিষয়ই মঙ্গলবারের বৈঠকে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হতে পারে। মুখ্যসচিবের হাতে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপি পৌঁছেছে। সেই নির্দেশ কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়েও জেলাশাসকদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে।
বর্তমানে রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই চলছে এসআইআরের শুনানি। সেই শুনানি ঘিরে সাধারণ মানুষের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে, কোথাও আবার দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকী কয়েকটি জেলায় মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়েও বৈঠকে জোর আলোচনা হতে পারে।
এর মধ্যেই প্রশাসনের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে আসন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা, যা চলবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রায় ১০ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসবে। মাধ্যমিক শেষ হতেই ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, যা চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সেখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লক্ষেরও বেশি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীন জেলা স্কুল পরিদর্শকরা সেন্টার ইনচার্জ ও ভেন্যু ইনচার্জ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন। যদি পরীক্ষার সময়েই তাঁদের এসআইআর শুনানিতে ব্যস্ত থাকতে হয়, তাহলে পরীক্ষা ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কলকাতা ও শহরতলির বহু পরীক্ষাকেন্দ্রেই বর্তমানে এসআইআর শুনানি চলছে। পরীক্ষা চলাকালীন এই শুনানি কোথায় ও কীভাবে হবে, সেই বিষয়টিও নবান্নের বৈঠকে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।



















