পশ্চিম মেদিনীপুর – ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, ঠিক তখনই মেদিনীপুরের মাটি থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর কলেজিয়েট মাঠে আয়োজিত ‘রণসংকল্প সভা’ থেকে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূল সমর্থকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে বুথস্তরের কর্মীদের প্রকাশ্য নির্দেশ দেন—আইন মেনে চলতে হবে, কিন্তু বেআইনি চেষ্টা হলে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, তবে তা হবে ‘ভদ্রভাবে’।
সভা থেকে অভিষেক স্পষ্ট করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের পর ফর্ম জমা দেওয়া আইনত বৈধ নয়। তাঁর বক্তব্য, “১০টার বেশি কোনও ফর্ম বৈধভাবে জমা দেওয়া যায় না। ফর্ম জমার শেষ তারিখ ছিল গতকাল, তা বাড়িয়ে ১৯ তারিখ করা হয়েছে। যদি কোনও বিজেপির নেতা শেষ মুহূর্তে ইআরও দফতরে ১০টার বেশি ফর্ম জমা দিতে আসে, তাহলে ভদ্রভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে শুনিয়ে দিন।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। অভিষেকের দাবি, ফর্ম-৭ ব্যবহার করে পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূলের ভোটারদের নাম কাটার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “দু’দিন আগে বাঁকুড়ায় ১০ হাজার ফর্ম-৭ ধরা পড়েছে। বিজেপি নেতারা তৃণমূলের ভোটারদের চিহ্নিত করে ইআরও অফিসে জমা দিতে গিয়েছিল, যাতে নাম বাদ যায়। গতকাল কলকাতায় আমরা সেই চেষ্টা রুখেছি।”
মেদিনীপুরের সভা থেকেই বিজেপি ও সিপিএমের আঁতাতের অভিযোগ ফের সামনে আনেন অভিষেক। তাঁর কটাক্ষ, “বোতল নতুন, মদ পুরনো। আগে ছিল সিপিএমের হার্মাদ, এখন বিজেপির জল্লাদ। জার্সি বদলেছে, চরিত্র বদলায়নি।” তিনি অভিযোগ করেন, সিপিএমের আমলের বহু হিংসার অভিযুক্ত নেতা আজ বিজেপির মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে।
বক্তৃতায় ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “এই মেদিনীপুর বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি। বিদ্যাসাগর না থাকলে মোদী-শাহ নিজের নাম লিখতে পারতেন? নেতাজি, রামমোহন না থাকলে আজকের ভারত কেমন হতো?” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন, তৃণমূল সরকারের সামাজিক প্রকল্প, বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে।
ভোটের অঙ্ক কষে সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “গত বিধানসভা নির্বাচনে ১৫টির মধ্যে ১৩টি আসন আপনারাই জিতিয়েছেন। এবার লক্ষ্য ১৫-০। মেদিনীপুর থেকে সব হার্মাদকে বিদায় করতে হবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এসআইআর ইস্যু আর শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, তা সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
সব মিলিয়ে মেদিনীপুরের রণসংকল্প সভা থেকে তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা পরিষ্কার—আইন মেনে চলা হবে, কিন্তু ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে বুথে ও রাজপথে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।




















