রাজ্য – ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision—SIR) ঘিরে কোনও রকম অশান্তি, হিংসা কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি বরদাস্ত করা হবে না। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, আধিকারিক বা কর্মীদের হুমকি কিংবা হামলার ঘটনা ঘটলেই অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করতে হবে—এই মর্মে রাজ্যের সমস্ত জেলা প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল।
রাজ্যের সব জেলাশাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DM ও DEO) উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে সিইও স্পষ্ট জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের ১৯ জানুয়ারির নির্দেশ অনুযায়ী এসআইআর সংক্রান্ত কাজ চলাকালীন কোনও শুনানি কেন্দ্র বা সরকারি দফতরে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে হবে। সেই এফআইআর-এর কপি সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার এবং সিইও দফতরে পাঠানো বাধ্যতামূলক।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি হিংসা বা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা অব্যাহত থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট শুনানি অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি বা ‘সাইন ডাই’ করে দিতে হবে। তবে সেই শুনানি পুনরায় শুরু করা যাবে শুধুমাত্র রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অনুমোদন সাপেক্ষে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমিশন সতর্ক করেছে, এই ধরনের ঘটনায় এফআইআর দায়ের করতে দেরি হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রতিকূল সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নির্বাচন কমিশনের জারি করা মেমো অনুসারেই এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
এর আগেই সিইও দফতর জানিয়ে দিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দিয়ে কমিশন স্পষ্ট করেছিল, কোথাও অশান্তির জেরে যদি শুনানি বন্ধ হয়ে যায়, তার জবাবদিহি করতে হবে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তা অর্থাৎ ডিজি রাজীব কুমারকে।
এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে হয়রানির অভিযোগে সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক জায়গায় অশান্তির ছবি সামনে এসেছে। ফরাক্কা ও চাকুলিয়ার পর উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতেও বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সন্দেশখালির ওই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
গত ১৪ জানুয়ারি দুপুরে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বিডিও অফিসে চরম উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, তার কিছুক্ষণ আগেই কয়েকজন বিএলও বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর দলবল নিয়ে সেখানে পৌঁছন তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অফিসের প্লাস্টিকের চেয়ার ও অন্যান্য আসবাব ভাঙচুর করা হয়।
এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে ফোন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ভাঙচুরের অভিযোগে সেদিনই পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করলেও, কমিশনের তরফে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এফআইআর দায়ের হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রশাসনের উদ্দেশে চিঠি দেন বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তিনি সংবিধানের বিধান মেনেই চলেন। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়ার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। গত ১৪ জানুয়ারি ফরাক্কার বিডিও অফিসের সামনে তিনি যা বলেছিলেন, তা শুধুমাত্র নিজের মতপ্রকাশ ছিল বলেই দাবি করেছেন তিনি।




















