রাজ্য – এসআইআর ইস্যুতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্য প্রশাসনকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কাজের ক্ষেত্রে আর কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতেই হবে, না হলে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
শুক্রবার এসআইআর সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। এই বৈঠকে মূলত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে কেন্দ্র করে কাজের অগ্রগতি ও গতি-প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়। এই দুই জেলা নিয়ে যে কমিশন অসন্তুষ্ট, তা আগেও স্পষ্ট হয়েছিল। বৈঠকে স্পেশাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত জানান, যেহেতু শুনানি পর্ব এখনও চলছে, তাই সংশ্লিষ্ট ভোটাররা নতুন করে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন বারবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথি আপলোড করার উপর জোর দিচ্ছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী নথি আপলোড সম্পূর্ণ হলেই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএলআরও, ইআরও এবং এইচআরও-সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত আধিকারিকদের আরও সতর্কভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যাঁরা স্পেশাল অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদেরও বারবার সতর্ক করা হচ্ছে, যাতে কোনও রকম ভুল বা গাফিলতি না হয়।
রাজ্যজুড়ে সামগ্রিকভাবে এসআইআর-এর কাজে গতি থাকলেও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট অসন্তুষ্ট এবং সন্দিহান। কারণ এই দুই জেলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে, রাজ্যের বাকি অংশে কাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। তবে দুই ২৪ পরগনাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সময়মতো কাজ শেষ না হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ভার্চুয়াল বৈঠকেই জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের এক তারিখের মধ্যে শুনানিতে ডাকা সমস্ত ভোটারের হাতে নোটিশ পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে নির্বাচন কমিশনার জানতে চান, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শুনানি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব কি না। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, কয়েকটি জেলায় সময়সীমার মধ্যে শুনানি শেষ করা নাও হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন আরও সতর্কতার সঙ্গে এগোতে চাইছে। কাজের ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি বা ভুলত্রুটি ধরা পড়লে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। একই সঙ্গে কড়া ভাষায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত কাজ শেষ করতেই হবে।




















