এসআইআর বিতর্কে কমিশনের কড়া নির্দেশ, মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড বাতিল—নতুন নথি জমার নির্দেশ ভোটারদের

এসআইআর বিতর্কে কমিশনের কড়া নির্দেশ, মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড বাতিল—নতুন নথি জমার নির্দেশ ভোটারদের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যের নানা প্রান্তে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি ক্রমশ বাড়ছে। তার মধ্যেই আচমকা বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড আর নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘোষণার পরেই বড় প্রশ্ন উঠে আসে—যাঁরা ইতিমধ্যেই এসআইআর শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে? সেই দ্বিধাগ্রস্ত ভোটারদের জন্যই এবার বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করল কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, মূলত নো ম্যাপিং বা এনুমারেশন ফর্মে তথ্যের অসংগতি থাকলেই ভোটারদের এসআইআর শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এই শুনানিতে বহু ভোটার শুধুমাত্র মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসেবে জমা দিয়েছেন। কিন্তু কমিশনের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, যেহেতু এই নথি আর বৈধ নয়, তাই ওই ভোটারদের আবারও গ্রহণযোগ্য নথি জমা দিতে হবে।
কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন, তাঁরা চাইলে সশরীরে এসআইআর কেন্দ্রে গিয়ে নতুন নথি জমা দিতে পারেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার বা BLO-র কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও নথি পাঠানো যাবে। তবে হোয়াটসঅ্যাপে নথি পাঠানোর আগে অবশ্যই BLO-র সঙ্গে কথা বলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। জমা দেওয়া নতুন নথি যাচাই করার পরেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এই এসআইআর প্রক্রিয়া কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে এই বিশেষ সংশোধনী। কাজ হচ্ছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ধরে, কারণ ওই বছরই শেষবার নিবিড় সংশোধন হয়েছিল। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলা-সহ মোট ১২টি রাজ্যে এই এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের এসআইআর শুনানিতে গিয়ে যথাযথ নথি জমা দিয়ে নাম তোলার আবেদন করতে হবে। শুধু নতুন নাম সংযোজনই নয়, ভোটার তালিকায় থাকা যে কোনও ভুল বা অসংগতি সংশোধনের ক্ষেত্রেও এই নথি জমা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে কমিশন।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, নির্বাচন কমিশন আগেই ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ১৩টি নির্দিষ্ট নথির তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকায় মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ছিল না। যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নাগরিকত্ব প্রমাণে বহু ক্ষেত্রে এই নথি গ্রহণযোগ্য, তাই এসআইআর প্রক্রিয়াতেও তা মান্য করা হোক। বিভিন্ন স্তরে সেই আবেদন জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত তা মানেনি জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
এরই মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বহু BLO এসআইআর শুনানিতে ডাকা ভোটারদের কাছ থেকে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই নথি আর কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে নতুন করে নথি জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ ভোটারদের আরও সমস্যায় ফেলবে এবং বিভ্রান্তি বাড়াবে। তবে কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, যাঁরা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের দ্রুত বিকল্প ও গ্রহণযোগ্য নথি জমা দেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। কমিশনের নির্দেশিকা মেনে সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা সংশোধনের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেই আশঙ্কা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top