উত্তর 24 পরগণা – এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে তৃণমূল শিবিরে। একদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর নাম বাদ যাওয়া নিয়ে মতুয়াদের সান্ত্বনা দিয়ে সিএএ-র আশ্বাস দিচ্ছেন, অন্যদিকে সেই বক্তব্য নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই শনিবার ঠাকুরনগরে সাংবাদিক সম্মেলন করে এসআইআর বাতিলের দাবি তুললেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর।
তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ঠাকুরনগরের বড়মা বীণাপাণি দেবীর ঘরের সামনে আমরণ অনশন শুরু করবে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ, যেখানে তিনিও নিজে অংশ নেবেন। মমতাবালা স্পষ্ট বলেন, “এসআইআরের নাম বাদ যাওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদেরই নাম কাটা পড়বে বেশি। আমরা তাঁদের পক্ষেই আন্দোলনে নামছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভুতুড়ে ভোটার বাদ যাক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে যত ভোট হয়েছে, মন্ত্রী-সাংসদ হয়েছেন, এখন যদি বলা হয় ১১টি ডকুমেন্ট না থাকলে নাম কাটা যাবে, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? দুই কোটি নাম বাদ গেলে তার মধ্যে ৯০ শতাংশই মতুয়া।”
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর মমতাবালার এই অনশন সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে বলেন, “এসব রাজনৈতিক নাটক ছাড়া কিছু নয়। বড়মার সামনে অনশন করলে কী তিনি আশীর্বাদ পাবেন?” তাঁর মন্তব্যের পরেই আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মতুয়া মহলে।
এদিকে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্রনাথ গাইন বলেছেন, “মমতাবালা ঠাকুর নিজের রাজনৈতিক বক্তব্য রাখছেন। উনি অনশন করতে পারেন, কিন্তু এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংগঠনের মতুয়ারা নেই। তিনি আগেও সিএএ-র বিরোধিতা করেছেন।”
এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ চরমে উঠছে। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের নাম করে বহু মানুষের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, আর এই ইস্যুতেই এখন রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত।




















