বর্ধমান – এসআইআর পর্বে বড় রাজনৈতিক ফসল ঘরে তোলার যে স্বপ্ন বিজেপি দেখেছিল, বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। উল্টে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে মানুষের হয়রানি, আতঙ্ক এবং একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পথে নেমে ক্যাম্প করে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝেই পাল্টা কৌশল নেয় বিজেপি এবং রাজ্যজুড়ে নাগরিকত্ব প্রদান ক্যাম্প খুলে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা শুরু করে। তবে সেই পরিকল্পনাতেও বড়সড় ধাক্কা খেল গেরুয়া শিবির।
শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন, তার মধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই মৃত্যুমিছিলের মধ্যে রয়েছেন বিএলও থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার, মোট পাঁচবার, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও জবাব মেলেনি বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
এই আবহে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজেপি নাগরিকত্ব প্রদান ক্যাম্প খুলেছিল বাসিন্দাদের মন জয়ের আশায়। কিন্তু বাস্তবে সেই ক্যাম্পগুলিতে দলের কর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে মানুষ এগিয়ে না আসায় ক্যাম্পগুলি কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আসার আগেই তা ঢাকতে বেশিরভাগ জেলা থেকেই ক্যাম্প গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে বিজেপি, এমনটাই দলীয় সূত্রে খবর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার মানুষ প্রত্যাশিত সাড়া না দেওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে গেরুয়া শিবির। কারণ এই ছবি প্রকাশ্যে এলে ভোটবাক্সে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে এসআইআর পর্বে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ তীব্র হলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনও স্পষ্ট দিশা তাঁরা পাননি বলে অভিযোগ। সেই ক্ষোভ সামলাতেই মতুয়াদের সামনে নাগরিকত্বের টোপ দিয়ে ক্যাম্প খোলা হয়েছিল, কিন্তু তাতেও বিশেষ সাড়া মেলেনি।
সূত্রের খবর, পূর্ব বর্ধমানের বিজেপি জেলা পার্টি অফিস, বড়শুল, জামালপুর, মেমারি-সহ একাধিক জায়গায় খোলা নাগরিকত্ব প্রদান ক্যাম্প ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই ছবি বনগাঁ এলাকাতেও। সেখানে মানুষের উপস্থিতি না থাকায় অধিকাংশ ক্যাম্প বন্ধ হয়ে গেলেও এখনও একটি ক্যাম্প খোলা রয়েছে বলে জানা গেছে। রানাঘাট থেকে শুরু করে বর্ধমানের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক নাগরিকত্ব ক্যাম্পে ঝাঁপ পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিজেপির সত্যিই সদিচ্ছা থাকলে আগেই নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু তা না করে চাপের মুখে লোক দেখানো ক্যাম্প খোলা হয়েছিল, যা এখন একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দেবু টুডু বলেন, নির্বাচন এলেই বিজেপি প্রতিবার মতুয়াদের সামনে নাগরিকত্বের টোপ দেয়, কিন্তু বাস্তবে কোনও কাজ করে না। এবার মতুয়ারা সেই সত্য বুঝে গিয়েছেন বলেই বিজেপিকে ক্যাম্প বন্ধ করতে হচ্ছে।



















