এসআইআর বিতর্কে বিজেপির দিল্লি নেতৃত্বের অবস্থান স্পষ্ট, মতুয়া ভোটার বাদে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ জোরালো

এসআইআর বিতর্কে বিজেপির দিল্লি নেতৃত্বের অবস্থান স্পষ্ট, মতুয়া ভোটার বাদে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ জোরালো

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দিল্লি – এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যের মতুয়া সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্মতি রয়েছে, তা এবার প্রকাশ্যেই স্বীকার করলেন বিজেপির তপশিলি মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি লাল সিং আর্য। বাংলায় বসেই শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলেন তিনি। এর ফলে মতুয়া ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নেপথ্যে দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই বিরোধী দলনেতা বারবার দাবি করে আসছেন, রাজ্য থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের তাড়ানো হবে। যদিও নির্বাচন কমিশনের খসড়া ভোটার তালিকা তৈরির সময় কোনও রোহিঙ্গার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বরং সমস্যায় পড়েছেন রাজ্যের মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ, যাঁদের নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে কার্যত সমর্থন জানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় তপশিলি মোর্চা সভাপতি লাল সিং আর্য। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের সকলের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত এবং সেখানে ধর্মের কোনও ভেদ থাকা চলবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবেই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর হলেও এখনও পর্যন্ত বাংলার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কোনও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এর ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন বহু মতুয়া। সেই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে লাল সিং আর্যের মন্তব্য, যাঁদের নাগরিকত্ব নেই, তাঁদের ভোটার তালিকাতেও থাকা উচিত নয়।
এই সর্বভারতীয় নেতার বক্তব্যে কার্যত অস্বস্তিতে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি। এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে এমনিতেই মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে দলটি। তার উপর কেন্দ্রীয় নেতার এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য স্পষ্টভাবে জানান, কেন্দ্রীয় নেতার এই বক্তব্যের সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির কোনও সহমত নেই।
এর পরই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলায় ভোটে জিততে বিজেপি আদতে কোন নীতির উপর ভর করে এগোতে চাইছে। কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের বক্তব্যের এই ফারাক বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানকেই কি আরও দুর্বল করবে, সেই দিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top