রাজ্য – রাজ্যের এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে চলমান বিতর্কে বড়সড় মোড় আনল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এই নির্দেশকে স্বস্তির হিসেবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, শুরু থেকেই তারা এই তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছিল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণে কার্যত চাপে পড়েছে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি। যদিও এসআইআর নিয়ে কমিশন ও বিজেপির অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত। তবে আদালতের নির্দেশে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ফের তোপ দাগেন। এসআইআর-এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এসআইআর-এর আসল অর্থ দাঁড়াচ্ছে ‘সফটওয়্যার ইনটেনসিভ রিগিং’। তাঁর দাবি, তৃণমূল ৭৫ বারেরও বেশি স্বচ্ছতার কথা বলেছে। এসআইআর-এর বিরোধিতা করা হচ্ছে না, কিন্তু এই প্রক্রিয়া হতে হবে মানবিক ও সম্পূর্ণ স্বচ্ছ।
ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—সবাই একই কথা বলে আসছেন। তাঁর প্রশ্ন, কেন সাধারণ মানুষের উপর এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অযথা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে বহু প্রকৃত ভোটারকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি তাদের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ হলে এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তৃণমূল।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, মডেল কোড অফ কনডাক্ট আলাদা করে ব্যাখ্যার কোনও সুযোগ নেই, অথচ কমিশন সেই বিধিও মানছে না। একই সুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, এসআইআর শুরু হয়েছিল বিহারে, কিন্তু প্রকৃত লক্ষ্য ছিল বাংলা। তাঁর অভিযোগ, এই রাজ্যের ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য একের পর এক কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
সাগরিকা ঘোষ আরও বলেন, আগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল যাতে সবাই ভোট দিতে পারে। এখন সেই অবস্থান বদলে গিয়ে ভোটার বাদ দেওয়াই যেন অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন নজর, নির্বাচন কমিশন কত দ্রুত এবং কীভাবে এই নির্দেশ কার্যকর করে।




















