রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা আবেদনের শুনানি আজ, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে। সেই কারণেই এদিন তিনি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁর আইনজীবীদের মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন পেশ করে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে নিজের যুক্তি উপস্থাপনের অনুমতি চেয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতে প্রবেশের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নামে একটি বিশেষ পাসও জারি করা হয়েছে। এমনও ইঙ্গিত মিলছে যে, প্রয়োজনে তিনি সরাসরি প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে অনুমতি চাইতে পারেন। তবে এই বিষয়টি ঘিরেই নতুন করে আইনি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আদৌ সুপ্রিম কোর্টে নিজে সওয়াল করতে পারেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এলএলবি ডিগ্রি থাকলেও তিনি একজন প্র্যাক্টিসিং আইনজীবী নন। অর্থাৎ তিনি কোনও রাজ্য বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত নন, অল ইন্ডিয়া বার এক্সামিনেশন (AIBE) পাশ করেননি এবং বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া থেকে প্র্যাকটিস সার্টিফিকেটও নেননি। ফলে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি একজন আইনস্নাতক হলেও আদালতে সওয়াল করার অধিকার তাঁর নেই।
ভারতের আইন অনুযায়ী, আদালতে সওয়াল-জবাব করার অধিকার অ্যাডভোকেটস অ্যাক্ট, ১৯৬১ এবং বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। শুধুমাত্র সেই ব্যক্তিরাই আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেন, যাঁদের নাম রাজ্য বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত এবং যাঁরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্র্যাকটিসের অনুমতি পেয়েছেন। এই শর্ত পূরণ না করে আদালতে সওয়াল করলে তা অবৈধ অনুশীলনের মধ্যে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে একজন আবেদনকারী হিসেবেই উপস্থিত থাকতে পারেন। তিনি তাঁর আইনজীবীদের নির্দেশ দিতে পারবেন এবং মামলার বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে পারেন। কিন্তু একজন আইনজীবী হিসেবে বিচারপতির সামনে সওয়াল করা বা আইনি যুক্তি উপস্থাপন করার অধিকার তাঁর নেই। এমনকি তিনি পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমেও নিজে সওয়াল করতে পারবেন না।
মুখ্যমন্ত্রীর দাখিল করা অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি এসআইআর মামলার একজন আবেদনকারী এবং মামলার ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত। সুপ্রিম কোর্টের শিষ্টাচার, পদ্ধতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে তাঁর পূর্ণ জ্ঞান রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সে সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা সম্পূর্ণ আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করছে। আজ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।




















