রাজ্য – সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলাকে ‘ড্রামা’ ও ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সোমবার ইকো পার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। দিলীপ ঘোষের দাবি, আইনজীবী নিয়েই যদি শেষ পর্যন্ত মামলা লড়তে হয়, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী কেন আগে নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, পুরো ঘটনাই নাটক এবং জনসংযোগের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, সুপ্রিম কোর্টে আজ কী হবে তা আগেই বোঝা যায়। তাঁর মতে, রাজ্য সরকারের করা এই মামলার কোনও ভিত্তি নেই এবং প্রতিবারের মতো এবারও রাজ্য সরকারের মুখ পুড়বে। তিনি এই মামলাকে সম্পূর্ণ ‘বেসলেস’ বলে মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। সেই দিন তিন সদস্যের বেঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতির অনুমতিতে তিনি নিজেই সওয়াল করেন এবং বলেন, তিনি নিজের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্য আদালতে এসেছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বললেও বিজেপি শিবির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ।
ব্যারাকপুরে এক কাউন্সিলরের মারধরে বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূলের কাউন্সিলরদের মধ্যে সমাজবিরোধী গুন্ডা-মাস্তানের আধিক্যের কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই এবং শাসক দলের প্রশ্রয়েই অপরাধ বাড়ছে।
ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে দিলীপ ঘোষ বলেন, গোটা দেশ জুড়েই ভুয়ো ভোটার রয়েছে। তবে বহু ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এই রাজ্য থেকেই জাল নথি তৈরি করে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে অনেকে। তাঁর দাবি, সব ভুয়ো ভোটার বাতিল করার লক্ষ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে এবং তৃণমূল এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে বেআইনি ভোটারদের রক্ষা করতে চাইছে।
নদিয়ায় তৃণমূলের অত্যাচারে মানুষ বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে দিলীপ বলেন, তৃণমূল পুরোপুরি সমাজবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখন একটাই লক্ষ্য—ক্ষমতায় টিকে থাকা।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বিরুদ্ধে দলেরই এক মহিলার আনা নিগ্রহের অভিযোগ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, কংগ্রেস কার্যত ডুবে গিয়েছে। কোথাও অবৈধ কিছু হলে প্রশাসনের উচিত বিষয়টি দেখা।
রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় বিজেপির সভায় মঞ্চ ভাঙার অভিযোগ নিয়েও মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, মঞ্চ ভাঙেনি। তৃণমূলের নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন বিজেপিকে কোথাও অনুষ্ঠান করার জন্য হল দেয় না বলেই জলাজমির ধারে মঞ্চ তৈরি করতে হয়েছিল, সেই কারণেই মঞ্চের একাংশ বসে যায়।
বাদুড়িয়ায় বিজেপি কর্মীদের হুমকির অভিযোগ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীরা একাধিক জায়গায় হুমকির মুখে পড়ছেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের গুন্ডাদের সামনে প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে এবং পুলিশ সমাজবিরোধীদেরই রক্ষা করছে। এই পরিস্থিতিতেই বাংলায় গণতন্ত্র বিপন্ন বলে দাবি করেন তিনি।



















