দেশ -বর্তমান আর্থিক বাজারে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি-র মাধ্যমে বিনিয়োগের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্বল্প মাসিক অবদান থেকেই গড়ে ওঠা দীর্ঘমেয়াদী সম্পদের সম্ভাবনা, এই ব্যবস্থাকে সঞ্চয়ের একটি বাস্তব ও স্থিতিশীল পথ করে তুলেছে। বিশেষ করে ‘সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ বা এসআইপি এখন এমন এক মাধ্যম যেখানে মানুষ তাদের সাশ্রয়ী উপার্জন থেকেও ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
এসআইপি যে কেবলমাত্র আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে তাই নয়, বরং সময়মতো পরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগ করলে তা বড় রিটার্ন এনে দিতে পারে। অনেকেই এখন ‘স্টেপ-আপ এসআইপি’ কৌশল গ্রহণ করছেন, যেখানে বছরে বছরে আয় অনুযায়ী বিনিয়োগের অঙ্ক বাড়ানো যায়। এর ফলে চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা বৃদ্ধি পায় এবং মূলধনের পাশাপাশি রিটার্নের পরিমাণও দ্রুত বেড়ে যায়। বেশ কিছু মিডিয়া রিপোর্টে দেখা গেছে, বহু মানুষ পরিকল্পিতভাবে নিয়মিত এসআইপি করে দশ বছরের মধ্যে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত তহবিল গড়ে তুলেছেন। কেউ কেউ এমনকি ৪৫ বছরেই অবসর নেওয়ার মতো আর্থিক স্থিতি অর্জন করেছেন।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ প্রতি মাসে ৪৩,৫০০ টাকা করে এসআইপি করেন এবং ১২% হারে বার্ষিক রিটার্ন ধরেন, তাহলে ১০ বছরে তার বিনিয়োগকৃত অর্থ হবে ৫২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, এবং আনুমানিক রিটার্ন ৪৮ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তহবিল দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি টাকার মতো। তবে এই উচ্চ মাসিক বিনিয়োগ সকলের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। তাই অনেকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন স্টেপ-আপ পদ্ধতি, যেখানে মাসিক অবদান ৩০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করে প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বাড়ানো যায়।
এই ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারী তুলনামূলকভাবে কম চাপ অনুভব করেন এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, স্টেপ-আপ এসআইপি-তে ১০ বছরে মোট বিনিয়োগ হতে পারে ৫৭ লক্ষ টাকার বেশি, এবং রিটার্ন ৪৩ লক্ষের কাছাকাছি। তাতে মিলিতভাবে ১ কোটির তহবিল সম্ভব। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর পছন্দ ও সক্ষমতার উপর নির্ভর করে তিনি প্রাথমিকভাবে বড় অঙ্কে বিনিয়োগ করবেন, নাকি ধাপে ধাপে তা বাড়াবেন।
এসআইপি শুধু অর্থ সঞ্চয়ের পন্থা নয়— এটি ভবিষ্যতের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অবসরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনপর্বের জন্য প্রস্তুতির আধুনিক উপায়ও বটে।
