দেশ – আজ রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সংসদে পেশ হতে চলেছে ২০২৬–২০২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট। সকাল থেকেই বাজেট দিবসকে ঘিরে তৎপরতা শুরু হয় রাজধানীতে। সকাল সকাল রাজভবনে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। প্রতিবারের মতো এবারও তাঁর পরনে থাকা শাড়ি নজর কেড়েছে দেশবাসীর।
বাজেট বক্তৃতার জন্য এদিন দেশের ঐতিহ্যবাহী বুননের একটি সিল্ক শাড়ি বেছে নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। শাড়িটি ছিল মেরুন রঙের, খানিকটা মভ ঘেঁষা। রেশম ও জড়ির সূক্ষ্ম কাজে বোনা এই শাড়িটি সম্ভবত দক্ষিণ ভারতীয় স্টাইলে তৈরি। শাড়ির জমিতে সোনালি সুতোয় চেকের নকশা এবং পাড়ে গাঢ় চকলেট রঙের সঙ্গে জোড়া ফিতের মতো জড়ির কাজ নজর কাড়ে।
শাড়ির সঙ্গে মানানসই সাধারণ ব্লাউজই বেছে নিয়েছেন নির্মলা সীতারামণ। শাড়ি কিংবা ব্লাউজ—কোনোটিতেই বাড়তি চাকচিক্য ছিল না। বরাবরের মতোই বাজেটের দিন বাঁধা ধাঁচের পোশাকেই তাঁকে দেখা যায়। এদিন তিনি সর্ষে হলুদ রঙের উলের ব্লাউজ এবং শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিল রেখে গাঢ় চকলেট রঙের উলের শাল পরেছিলেন। হাতে ছিল ডিজিটাল ট্যাব, যার মাধ্যমেই তিনি বাজেট বক্তৃতা উপস্থাপন করে আসছেন বিগত কয়েক বছর ধরে।
সংসদে বাজেট পেশের আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু অর্থমন্ত্রীকে দই-চিনি খাইয়ে দেন। বাজেট দিবসে এই প্রথাগত রীতিকে শুভ সূচনা ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মানা হয়। এই বৈঠকে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের সংসদীয় রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাজেট প্রস্তাবের বিস্তৃত রূপরেখা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ, কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ডের চেয়ারম্যান রবি আগরওয়াল সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
সকাল ১১টা থেকে লোকসভায় টানা নবমবারের মতো কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন নির্মলা সীতারামণ। এর মাধ্যমে তিনি প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের রেকর্ডে সমতা আনবেন এবং প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ছাড়িয়ে যাবেন। সর্বাধিক সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার সামগ্রিক রেকর্ড এখনও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের দখলে রয়েছে।
এই বাজেটে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের আনুমানিক আয় ও ব্যয়ের হিসেব তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি ২০০৩ সালের আর্থিক দায়বদ্ধতা ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইনের অধীনে মধ্যমেয়াদী আর্থিক নীতি বিবৃতি এবং ম্যাক্রো অর্থনৈতিক কাঠামো সংক্রান্ত দুটি বিবৃতিও পেশ করা হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হবে অর্থ বিল ২০২৬।
উল্লেখ্য, এবারের বাজেট অধিবেশন চলবে মোট ৬৫ দিন ধরে ৩০টি বৈঠকের মাধ্যমে এবং শেষ হবে ২ এপ্রিল। সংসদীয় কমিটিগুলির মাধ্যমে অনুদানের দাবি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশনে বিরতি নেওয়া হবে।



















